এই দুই বন্ধু দেশই সবথেকে বেশি ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয়দের! দেখুন তালিকা

Published:

Indian Deportation
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিদেশে কাজ বা পড়াশোনার স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় দেশ ছাড়ে। তবে সেই স্বপ্ন ভেঙে বহু মানুষকে ডিপোর্ট হয়ে ফিরতে হয় (Indian Deportation)। সাধারণ আলোচনায় প্রায়শই যুক্তরাষ্ট্রকে সবথেকে বড় দোষী হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু সংসদে পেশ করা পররাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারের দেওয়া নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতীয় নাগরিকদের সবথেকে বেশি ফেরত পাঠিয়েছে দুটি উপসাগরীয় দেশ, যাদের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক সবথেকে ঘনিষ্ঠ।

শীর্ষে রয়েছে কারা?

এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২৫ সালে সেখান থেকে ১৩,৮৮৭ জন ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া, কাজের অনুমতিপত্র সমস্যা বা নথিপত্রের গরমিলের কারণেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থান রয়েছে সৌদি আরব। ২০২৫ সালে ৯৫৭০ জন ভারতীয়কে ডিপোর্ট করা হয়েছে বলেই রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে। আবাসিক অনুমতিপত্র সময়মতো নবীকরণ না হলে কঠোর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এই দেশে। সেই কারণেই ভারতীয়রা এরকম সমস্যার মুখে পড়েছে।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালের ৩৪১৪ জন ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিক তালিকায় তারা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আর সেখানে ডিপোর্টেশন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ইমিগ্রেশন আদালতের নির্দেশে ফেরত পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে।

তালিকায় আর কোন দেশগুলি রয়েছে?

সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যে সমস্ত দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক ফেরত এসেছে তার মধ্যে রয়েছে—

  • মালয়েশিয়া থেকে ৪২২৭ জন,
  • কুয়েত থেকে ২৬০৮ জন,
  • ওমান থেকে ২২৪১ জন,
  • থাইল্যান্ড থেকে ২০৪৪ জন,
  • বেলজিয়াম থেকে ১৯৫৪ জন,
  • মিয়ানমার থেকে ১৫৯৪ জন,
  • লাওস থেকে ১৫০১ জন।

আরও পড়ুন: বন্দেমাতরম নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ! হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

কেন বাড়ছে ডিপোর্টেশনের সংখ্যা?

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণগুলি হল ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, অবৈধভাবে কাজ শুরু করা আর ওয়ার্ক পারমিট নবীকরনে ব্যর্থতা। পাশাপাশি স্থানীয় শ্রম বা অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন আর সন্দেহজনক সাইবার বা আর্থিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেই এই ডিপোর্টেশন বাড়ে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে কোনও দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ থাকুক না কেন, আইন সবার জন্য সমানভাবেই প্রযোজ্য।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now