ইউনূস যাওয়াতে বাংলাদেশের সব ভিসাকেন্দ্র চালুর পথে ভারত

Published:

Bangladesh–India Relations
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অবশেষে ঠিক হচ্ছে প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক (Bangladesh–India Relations)! ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ টানাপোড়েনের রেশ কাটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সব ধরনের ভিসা চালু করার পথে নয়াদিল্লি। সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের এক রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের সমস্ত ধরনের ভিসা পরিষেবা চালু করা হবে। হ্যাঁ, অনিরুদ্ধ দাস নামে সিলেটে নিযুক্ত কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, পূর্ণমাত্রায় সমস্ত ভিসা পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে কি আবারও ঠিক হবে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক?

কেন ভিসা পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছিল?

জানিয়ে রাখি, ২০২৪ এর ৮ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ওপার বাংলা ত্যাগ করে ভারতে আসার তিন দিন পর দেশের প্রথম ভিসা স্থগিত সিদ্ধান্ত আসে। মূলত দুই বাংলার মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেই বাংলাদেশ জুড়ে ভিসা সেন্টারগুলি বন্ধ করা হয়। তবে এরপর আংশিকভাবে পরিষেবা চালু ছিল। তাও মেডিকেল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে। তারপর ২০২৫ সালের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত ভিসা ইস্যু আরও বাড়ে। এক রিপোর্ট বলছে, ২০২৪ এর আগস্ট মাসে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৮০০০ ভিসা দেওয়া হত, তা নেমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ১৫০০ তে।

এবার ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আবারও ভিসা স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। সেই সময় ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলা কার্যত তোলপাড় হয়। এমনকি ভারত বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশের একের পর এক জায়গায়। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, দেশটির একাধিক জায়গায় হিন্দু সংখ্যালঘুদের হত্যা করা হয়। যার জেরে ভারতের ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারগুলিকে বন্ধ করা হয়। আর ১৭ নভেম্বর ঢাকা আইভিএসি বন্ধ হয়। তারপর ২২ নভেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা কেন্দ্রগুলিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি ইউনূস সরকারও দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা সহ বেশ কিছু ভিসা কেন্দ্র স্থগিত করে। তারপর থেকে চলছে এরকম টানাপোড়েন।

আরও পড়ুন: বাজি কারখানার বিস্ফোরণে কাঁপল পুরুলিয়া, প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুললেন অমিত মালব্য

ফের ভিসা কেন্দ্র চালু করছে ভারত?

এদিকে দীর্ঘ ১৮ মাস পর বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন খালেদা জিয়া পুত্র তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও জোরদার হবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সূত্রে অনিরুদ্ধ দাস বলেছেন, মেডিকেল এবং ডবল-এন্ট্রি ভিসাগুলি এখন আবারও জারি করা হচ্ছে। আর ভ্রমণ ভিসা ও অন্যান্য বিভাগ পুনরায় চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ওপার বাংলার সংবাদমাধ্যম যুগান্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক শ্রদ্ধা ও সম্মানের উপরই প্রতিষ্ঠিত। ২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে থাকে। কিন্তু তাঁর জামানায় দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ফের পড়শি দেশের সাথে সম্পর্কের উন্নতি হবে বলেই আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now