তিন মুসলিম দেশ রুখে দিল ইরানে আমেরিকার হামলা!

Published:

Donald Trump
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গত কয়েকদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উপর সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন (Donald Trump on Iran)। এমনকি এই হুঁশিয়ারিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরেও সৃষ্টি হচ্ছে উত্তেজনা। তবে সেই যুদ্ধের দামামা আপাতত স্থগিত হল। জানা যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সম্ভাব্য হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পিছনে মূলত তিন মুসলিম দেশ ভূমিকা পালন করছে। আর তারা হল সৌদি আরব, কাতার এবং ওমান। মার্কিন প্রশাসনকে তারা বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, এই মুহূর্তে হামলা চালালে পুরো অঞ্চলই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

অসম্ভবকে সম্ভব করল তিন দেশ

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি রিপোর্টে জানানো হয়, সৌদি আরব, কাতার এবং ওমান যৌথভাবেই ওয়াশিংটনকে এই আক্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সৌদি কর্মকর্তা এএফপি-কে জানিয়েছেন, আমরা শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছি যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তাদের ইচ্ছা প্রমাণের অন্তত একটা সুযোগ দেয়। উপসাগরীয় দেশগুলির যুক্ত ছিল, ইরানের উপর কোনও সরাসরি সামরিক আঘাত আসলে তার প্রতিক্রিয়া শুধুমাত্র তেহরানে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক অবস্থান ছিল কঠোর। কিন্তু তিন দেশের মধ্যস্থতার পর ধীরে ধীরে তাঁর সুর নরম হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে চলমান অস্থিরতা এবং দমন কিছুটা কম আসার কারণে নিয়ে আপাতত ইরানের উপর কোনও হামলা করবেন না। রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ট্রাম্প এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তেহরান যদি কোনও রকম ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখায়, তাহলে আলোচনার পথ দীর্ঘ হতে পারে।

আরও পড়ুন: অবসরের পর রেল কর্মীদের দেওয়া সিলভার মেডেলে থাকেনা রুপো! ফাঁস বড় তথ্য

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোন আলাপ

এদিকে আরও এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই মুহূর্তে ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণ করতে নিষেধ করেছেন। যদিও নেতানিয়াহু সবসময় ইরানের ব্যাপারে কঠোরপন্থী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতিতে হয়তো তারাও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না। আর এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি সত্য যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্টের অনুমতি ছাড়া সেই কথোপকথন আমরা প্রকাশ করতে পারছি না। এখন দেখার, আপাতত যুদ্ধ স্থগিত থাকে নাকি আবারও ট্রাম্পের মত পাল্টায়।