সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে আইপ্যাক কান্ডকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় রাজনীতি। ঠিক সেই আবহে কলকাতায় আর্থিক জালিয়াতি মামলায় সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। প্রায় ২৮০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার করা হল কলকাতার ব্যবসায়ী প্রত্যুষ কুমার সুরেকাকে (ED Arrests Kolkata Businessman)। জানা যাচ্ছে, শুক্রবার গ্রেফতার হওয়ার পর শনিবার বিশেষ পিএমএলএ আদালতে অভিযুক্তকে চার দিনের হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক কেলেঙ্কারিতে পরিকল্পিত ভাবে টাকা সরানোর একাধিক প্রমাণ মিলেছে।
কোন মামলায় গ্রেফতার করা হল?
ইডি সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে, এই মামলা মূলত শ্রী গণেশ জুয়েলারি হাউস লিমিটেডকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠছে, সংস্থা এবং তার প্রোমোটাররা ২৫টি ব্যাঙ্কের কনসোর্টিয়াম থেকে আনুমানিক ২৬৭২ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে তা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে। আর ২০১৬ সালে এই সংক্রান্ত একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল সিবিআই এর তরফ থেকে। সেই মামলার ভিত্তিতে অর্থ পাচার আইনে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি।।
ED, Kolkata has arrested Pratyush Kumar Sureka, aged 40 years, resident of Kolkata, on 16.01.2026 under PMLA, 2002 in connection with a bank fraud case of M/s Shree Ganesh Jewellery House (I) Ltd. for defrauding a consortium of 25 banks to the tune of Rs. 2,672 Crore. pic.twitter.com/RyuRXThe5J
— ED (@dir_ed) January 18, 2026
তদন্তে উঠে আসে, ২০১১-১২ সালে গয়নার ব্যবসার জন্য নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণ ওই ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হয়নি। বরং, সোলার পাওয়ার প্রকল্পে বিনিয়োগের নাম করে টাকা পাঠানো হয়েছিল অন্য একটি সংস্থায়। আর এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল আলেক্স অ্যাসট্রাল পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড। এদিকে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে প্রত্যুষ সুরেকা ওই সংস্থার জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর হয়েছিলেন। তারপর থেকেই একের পর এক আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন: বদলে গেল সোনা, রুপোর দাম! কমল না বাড়ল? দেখুন আজকের রেট
ইডির দাবি অনুযায়ী, ভুয়ো রেকর্ড রেজোলিউশন তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি ডামি ডিরেক্টর বসানো হয়। পাশাপাশি ব্যাকডেটেড চুক্তি দেখানো হয়েছিল এবং ডিজিটাল সিগনেচার ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয়, শ্যাম লোন ও সার্কুলার ট্রানজেকশনের মাধ্যমে টাকা ঘোরানো হয়। আর এই পদ্ধতিতে অ্যাস্ট্রাল গ্রুপের একাধিক সংস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত প্রত্যুষ সুরেকার বিরুদ্ধে গত ৫ জানুয়ারি লুকআউট সার্কুলার জারি করা হয়েছিল, এবং শুক্রবার তিনি থাইল্যান্ড যাওয়ার উদ্দেশ্যে কলকাতা এয়ারপোর্টে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই আটক করা হয়।












