প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের আবহে কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাক অফিসে ইডির তল্লাশিকে কেন্দ্র করে রাজ্য এবং কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাত তুঙ্গে উঠেছিল। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে এই সংঘর্ষে জল গড়িয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই হাইভোল্টেজ আইপ্যাক মামলার (IPAC Case Hearing) শুনানি ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এল বড় আপডেট। সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে এই মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এভো ও পরবর্তী শুনানি কবে হবে সেই নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হলফনামা জমা দিয়েছিল রাজ্য
উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয় রাজ্য সরকার। সেই হলফনামা দিয়ে ইডির মামলা খারিজের আবেদন করে রাজ্য। প্রশাসনের দাবি ছিল ‘২০২০ সালে কয়লার তদন্তের জন্য এফআইআর দায়ের হয়। আর ২০২৬ পর্যন্ত তদন্তে কী উঠে এসেছে তা দেখানোর মত কোনও নথি নেই। ইডি নিজেই অযৌক্তিক ও অজানা কারণে বিলম্ব করেছে। এছাড়াও রাজ্য দাবি করেছিল যে তল্লাশিতে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। বরং ইডি আধিকারিকদের অনুমতি নিয়েই আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি থেকে দলের নথিপত্র সংগ্রহ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও গত সপ্তাহেও সেই মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছিল।
ফের পিছিয়ে গেল মামলার শুনানি
সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে আইপ্যাক মামলায় ইডি সুপ্রিম কোর্টের হলফনামার জবাব দিতে সাতদিন সময় চেয়ে নেওয়ায় শুনানি পিছিয়ে গিয়েছিল। তাই আজ সকলের নজর ছিল বিচারপতিদের বেঞ্চে কেন্দ্রীয় সংস্থা কী নতুন প্রমাণ পেশ করে কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফের পিছিয়ে গেল সেই মামলার শুনানি। জানা গিয়েছে, রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বলের অসুস্থতার কারণে আজ মামলা স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়েছে। এরপর সলিসিট আর জেনারেল তুষার মেহতা প্রস্তাব দেন, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি শুনানি হোক। শেষে ১৮ ফেব্রুয়ারিতেই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করলেন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বেঞ্চ।
আরও পড়ুন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম না-থাকলে কীভাবে আবেদন করবেন? জানিয়ে দিল কমিশন
সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলাকে ঘিরে যখন একের পর এক যুক্তি খাড়া করে চলেছে কেন্দ্র এবং রাজ্য, সেই সময় আইপ্যাক মামলায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মনোজ ভার্মা। লাউডন স্ট্রিটে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, ওইদিন তাঁর ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক প্রোটোকল এবং নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তাঁর স্পষ্ট দাবি, তিনি তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনওভাবে অংশগ্রহণ করেননি বা কোনও প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টাও করেননি।












