‘চূড়ান্ত রায় মেনে নিক, নাহলে দাবানলের মতো …’ DA মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে উপদেশ

Published:

সহেলি মিত্র, কলকাতা: ফের কি আদালতের দোরগোড়ায় নতুন করে গড়াতে চলেছে DA বা মহার্ঘ ভাতা (Dearness allowance) মামলা? এই প্রশ্ন নতুন করে উস্কে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা সম্প্রতিতম একটি মন্তব্য। নবান্নে ডিএ বিষয়ক একটি প্রশ্ন করছিলেন এক সাংবাদিক। প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই উত্তর দিতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারী কর্মচারীদের একাংশের ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছে। 

DA নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী

কিছু দিন আগে, রাজ্যের অন্তবর্তী বাজেট ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার । সেখানে বলা হয়েছে ৪% ডিএ বৃদ্ধির কথা। যদিও, আদালত বলেছে রাজ্য সরকারের কর্মীদের মিটিয়ে বুঝিয়ে হবে পূর্বতন মহার্ঘ ভাতার বেতন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার কি আদৌ সেই বর্ধিত ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার পক্ষে? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কী কী নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট?

৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া থাকা ডিএ-এর ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। বাকি রইল ৭৫ শতাংশ ডিএ। সেটাও রাজ্য সরকারকেই কিস্তিতে মিটিয়ে দিতে হবে। মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারী কর্মীদের এই আইনি লড়াইও যে যুক্তিসঙ্গত, সেটাও মেনে নিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কী বলছেন?

‘”ডিএ-র বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন আছে। তাই কোনও মন্তব্য করতে চাই না”, বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা মনে রাখা জরুরি যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। সপ্তম পে কমিশনের ব্যাপারেও ঘোষণা করে হয়েছে। এদিকে বাকি থাকছে মহার্ঘ ভাতার বকেয়া অর্থ।

আরও পড়ুনঃ ২ লক্ষ বিনিয়োগেই ৭৭,৯৪৫ টাকা সুদ! বাজার কাঁপাচ্ছে PNB-র এই স্কিম

মুখ্যমন্ত্রীর এই জবাব সরকারী কর্মীদের একাংশ যে একেবারেই ভালোভাবে নিচ্ছে না সেটা স্পষ্ট। নিজেদের ভাবনার কথা সাফ জানিয়েছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী। তিনি বলেছেন, “মহার্ঘ ভাতার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী কী করে বলেন এই বিষয়টি বিচারাধীন? অযথা সময় এবং অর্থ ব্যয় করে রিভিউ পিটিশনে না গিয়ে অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত রায় মেনে নিক সরকার। না হলে ক্ষোভের আগুন দাবানলে পরিণত হবে।”

google button