সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভোটের মুখে এখন উত্তপ্ত বাংলা। প্যাচপ্যাচে গরম আর লু-র দাপটে কার্যত নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। আবহাওয়া দফতরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির গণ্ডি ছাড়িয়েছে (Weather Update)। আসানসোলের পারদ ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তবে এই গরমই শেষ নয়, বরং আবহাওয়াবিদদের মতে, সামনে অপেক্ষা করছে আরও ভয়ঙ্কর বিপদ। যার নাম ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Niño)।
পশ্চিমাঞ্চলে চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা
মঙ্গল ও বুধবার পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমান সহ পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপ প্রবাহের কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হালকা ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও তাতে কোনও স্বস্তির লক্ষণ নেই বলেই খবর। আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
তবে দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। কারণ, আগামী ২৬ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। বিশেষ করে আগামী রবিবার দক্ষিণের সাতটি জেলায় কালবৈশাখীর হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রতিদিন ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা সেখানকার মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেব।
চোখ রাঙাচ্ছে ‘সুপার এল নিনো’
এদিকে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আছড়ে পড়তে চলেছে সুপার এল নিনো। NOAA এবং ECMWF এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি দাবি করছে, জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো তৈরির সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ। অক্টোবর নাগাদ তা ৮০ শতাংশে পৌঁছতে পারে। এবার প্রশ্ন আসতে পারে—কেন এই আতঙ্ক? আসলে এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রির বেশি বেড়ে যায়। এর আগে ২০১৫-১৬ বা ১৯৯৭-৯৮ সালে এরকম পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এবার কলকাতার তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করতে পারে। আর এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা আরও দুর্বল হবে, এবং খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়বে। সেই সূত্রে জুন বা সেপ্টেম্বর মাসে স্বাভাবিকের থেকে তাপমাত্রা ২ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।










