প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২০১৬ সালের এসএসসি-র (SSC) গোটা প্যানেল বাতিল হওয়ার পরে রীতিমত জলে ডুবে যাওয়ার মত অবস্থা তৈরি হয়েছে প্রত্যেকটি স্কুলের শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকদের। রাতারাতি বদলে গিয়েছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র। এবং বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা চিন্তায় পড়েছে এই ভেবে যে বিষয়ের শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে, সেই বিষয়ে পরের দিন থেকে পড়াবেন কে? স্কুলে পঠনপাঠন চালানো নিয়েও বাড়ছে চিন্তা। আর এর মধ্যেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ধরা দিল সকলের সামনে। মাধ্যমিক – উচ্চ মাধ্যমিকের উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব এবার কারা নেবেন?
অভিমানের সুর চাকরি বাতিল শিক্ষকদের
২০১৬ সালের এসএসসি-র গোটা প্যানেল বাতিল হওয়ার পরে শীর্ষ আদালতের এই রায়ে চাকরিহারাদের ব্যক্তিগত জীবনে যেমন সঙ্কট নেমে এসেছে, ঠিক তেমনই রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাতেও ঘোর বিপর্যয় নেমে এসেছে। কোনও স্কুলে চাকরি গিয়েছে ৫০ শতাংশের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার, আবার কোনও স্কুলে চাকরি গিয়েছে এক তৃতীয়াংশের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার। বাদ যাননি শিক্ষাকর্মীরাও। আর এই পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন হল, স্কুলে পড়াবেন কারা? পরীক্ষার খাতায় বা কে দেখবে? সদ্য চাকরি হারানো শিক্ষক শিক্ষিকারা আদালতের রায়ে রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন অভিমান এবং রাগের সুরে বললেন, ‘‘এতগুলো বছর শিক্ষকতা করার পরে প্রমাণিত হল, আমরা অযোগ্য। তা হলে অযোগ্যদের দেখা খাতার মূল্যায়ন নিশ্চয়ই যথাযথ মূল্যায়ন হবে না। আমি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে ফোন করে বলব, আমার কাছে যে খাতাগুলি আছে, সেগুলি আমি ফেরত দিয়ে দিতে চাই।’’
বিষয়টি নিয়ে ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস’-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি জানালেন, গতকাল চাকরি বাতিলের রায়ে এমন অনেক শিক্ষক রয়েছেন সেই তালিকায় যারা এখন বোর্ডের খাতা দেখছেন। তবে এখনও পর্যন্ত সেই তালিকা নিয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বা উচ্চমাধ্যমিক সংসদ পর্যালোচনা করার সময় পায়নি। হঠাৎ এই রায় আসায় বিষয়টি নিয়ে বেশ ব্যতিব্যস্ত হতে উঠেছে সকলে।” কিন্তু তিনি মনে করেন, চাকরি চলে গিয়েছে বলে যাঁরা খাতা দেখতে এইমুহুর্তে চাইবেন না, তাঁদের খাতা দেখতে বাধ্য করাতে পারে না পর্ষদ বা সংসদ। সেক্ষেত্রে অন্য শিক্ষকদের দিয়েই ওই খাতাগুলির মূল্যায়ন করাতে হবে।”
পরীক্ষার ফলপ্রকাশে বাধা আসবে?
এদিকে শিক্ষক মহলের একাংশের মন্তব্য, যদি বোর্ডের খাতা দেখার জন্য নতুন শিক্ষকদের প্রয়োজন হয় তাহলে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু করা প্রয়োজন। কারণ হাতে খুবই অল্প সময়। তাই এই সময় সবকিছু ঠিকঠাকভাবে পরিকল্পনা না করা হলে দুই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষক মহলের একাংশ। তবে সেক্ষেত্রে আবার অনেকে বলছেন, মাধ্যমিকের খাতা দেখা প্রায় শেষ। উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখাও কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে। ফল প্রকাশ পিছিয়ে যাওয়ার বিষয় নেই।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |