‘গরুর গড় আয়ু ১৫ বছর, নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে?’ হাইকোর্টে উঠল প্রশ্ন

Published:

Calcutta High Court

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই পশুহত্যা নিয়ে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা নিয়ে এখন উত্তপ্ত আমজনতা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া। গরু, মহিষ এমনকি ছাগল হত্যার ক্ষেত্রেও আরোপ করা হয়েছে শর্ত। তবে তা নিয়ে মামলা করা হয়েছিল হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। আজ সেই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। যদিও স্থগিত রাখা হয়েছে রায়দান। তবে আজ শুনানিতে গরুর গড় আয়ু নিয়ে তোলা হয় প্রশ্ন।

গরুর গড় আয়ু নিয়ে হাইকোর্টে প্রশ্ন

এদিন মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন যে, প্রতিটি ব্লকেই পশু চিকিৎসক নিয়োগ করা হোক। আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা হোক। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মতো উপযুক্ত সার্টিফিকেট ছাড়া গরু বাছুরের মতো কোন পশু হত্যা করা যাবে না। আর সেই সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে সরকারের নির্দেশিকায় বলা রয়েছে যে, ১৪ বছরের কম বয়সী গরুকে হত্যা করা যাবে না। সেই প্রসঙ্গ টেনে আইনজীবী বলেন, একটি গরুর গড় আয়ু ১৫ বছর। তাহলে এই নিয়ম কীভাবে কার্যকর করা হবে তা সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন যে, এই নোটিশ সংশোধন করা হোক। ১৯৫০ সালের নিয়মে বলা রয়েছে যে গোহত্যা সীমিত করা উচিত। কারণ, গরু কৃষিকাজেও ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমানে ব্যবহার কমেছে। যারা ইতিমধ্যেই পশু কিনে ফেলেছেন, তাদের এই নিয়মের আওতায় ছাড় দেওয়া উচিত।

বিকাশ রঞ্জনের আরও দাবি, যদি কোনও পশুকে জবাই করার জন্য ফিটনেস সার্টিফিকেট না দেওয়া হয়, তাহলে ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করার নিয়মও রয়েছে। পৌরসভা এলাকায় কসাইখানাগুলি বা কোথায়? গরু বিক্রির হাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। এতে তাদের ধর্মীয় আচার আছে। সেটিকে উপেক্ষা করা যায় না। এমনকি তিনি আরও উল্লেখ করেন, গবাদি পশুর শুমারি অনুযায়ী সংখ্যা ১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেলেও এই মহিলারা পাবেন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা

অন্যদিকে আইনজীবী মেঘনাথ দত্ত বলেন যে, বিধিনিষেধগুলিকে কার্যকর করা হোক। আর নিয়মকানুন সম্পর্কে বিজ্ঞাপন দরকার। ১৯৫০ সালের আইনের পরিপ্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট একাধিকবার নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে ১৯৫০ সালের আইনকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। তবে প্রশাসন যে নিয়ম চালু করেছে তা মানতে সকলেই বাধ্য। রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য আরও বলেন যে, এই বিজ্ঞপ্তি হাইকোর্টের একটি নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই দেওয়া হয়েছে।