দুর্ঘটনায় স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ভোলেন পড়াশোনা, হুইলচেয়ারে বসে UPSC ক্র্যাক আথিরার

Published:

UPSC Success Story

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইচ্ছাশক্তি আর জেদ কখনও কাউকে দমিয়ে রাখতে পারে না। এ কথা বারে বারে প্রমাণিত। জীবনে যখন সব আলো নিভে যায়, তখন সেই অন্ধকার ত্যাগ করে নতুন ভোর ফিরিয়ে আনা যায় শুধুমাত্র অদম্য জেদ দিয়েই। কেরালের আথিরা সুগথন যেন সেই জেদের এক অনন্য নাম। ২০২৪-২৫ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় নিজের চতুর্থ প্রচেষ্টায় ৪৮৩ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছেন তিনি। তবে এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা তাঁর শরীরকে পঙ্গু করে দিলেও মনের জোরকে কমাতে পারেনি (UPSC Success Story)।

২০১৬ সালের সেই অভিশপ্ত দিন

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। আথিরা সুগথন তখন বেঙ্গালুরুতে বিডিএস বা ডেন্টিস্ট্রি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। তবে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর সব স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যেই তছনছ হয়ে যায়। দুর্ঘটনা জেরে তাঁর শরীরের নিচের অংশ সম্পূর্ণ প্যারালাইজড হয়ে যায়। আর সেখান থেকেই হুইলচেয়ারের লড়াই শুরু হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার থেকে তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় স্মৃতিভ্রম। তিনি জানান যে, দুর্ঘটনায় পরবর্তী প্রায় দু’বছর তিনি স্মৃতির অন্ধকারে ডুবে ছিলেন।এমনকি তিনি কে, বা কী নিয়ে পড়ছিলেন সবকিছুই মাথা থেকে উড়ে গিয়েছিল।

তবে দীর্ঘ চিকিৎসা এবং আয়ুর্বেদিক থেরাপির মাধ্যমে প্রায় দুই বছর পর ধীরে ধীরে তাঁর স্মৃতিশক্তি ফিরতে শুরু করে। আর সবকিছু মনে পড়ার পর আথিরা ঠিক করে নেন যে যেখানে জীবন থেমে গিয়েছিল, ঠিক সেখান থেকেই শুরু করবেন তিনি। এরপর পুনরায় বেঙ্গালুরু কলেজে আবার ফিরে যান। আর বিক্রিত স্মৃতিগুলি সরিয়ে বিডিএস-র প্রথম তিন বছরে পড়া শুরু করেন। তবে তাঁকে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। যদিও তিনি তাঁর ডাক্তারি ডিগ্রি ম্পন্ন করে নেন।

এদিকে ২০২০ সালে করোনা মহামারীর আবহে কোঝিকোড়ে ফিরে এসে আথিরা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কাজ করতে শুরু করেন। এরপর সেখানে সক্ষম মানুষদের অধিকার এবং লড়াই নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। তিনি অনুভব করেন যে, সমাজব্যবস্থায় এই পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্যই কাজ করা সবথেকে বড় আত্মত্যাগ। এতে শুধুমাত্র সেবা নয়, বরং নীতি নির্ধারণী পদে থাকার প্রয়োজন। আর সেই ভাবনা থেকেই তিনি সিভিল সার্ভিসের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন: দুর্ঘটনায় স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ভোলেন পড়াশোনা, হুইলচেয়ারে বসে UPSC ক্র্যাক আথিরার

তবে তাঁর এই দীর্ঘ লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে পরিবারের নিরলস পরিশ্রম। বিশেষ করে তাঁর বোন অনঘা। দিদির সার্বক্ষণিক সেবা আর চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার জন্য নিজের বিএসসি সাইকোলজি পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেয়। তারপর বিএসসি নার্সিং-এ ভর্তি হন। সেই সূত্রে আথিরা তাঁকে কৃতজ্ঞতা দিয়ে জানান যে, অনঘা শুধুমাত্র আমার বোন নয়। ও আমার একমাত্র ছায়া। ইন্টারভিউ বোর্ডে যখন আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আমার প্রিয় বন্ধু কে? আমি নির্ভয়ে আমার বোনের নাম নিয়েছি। আর বাবা সুগথন এবং মা মিনিও মেয়ের লড়াইয়ের প্রতি অবিচল আস্থা রেখেছিলেন।