বার্ধক্য ভাতা, ফ্রি চিকিৎসা সবই এক ছাদের তলায়! জন ভাগীদারি অভিযান রাজ্য সরকারের

Published:

Government Of West Bengal special abhiyan for tribals

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সাধারণ মানুষের রায়ে বাংলার সিংহাসনে বসতেই একে একে সমস্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার (Government Of West Bengal)। অন্নপূর্ণা ভান্ডার থেকে শুরু করে সপ্তম বেতন কমিশন, সবেতেই কথা রেখেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এবার রাজ্যের প্রান্তিক এবং পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য বড় ভাবনা রাজ্য সরকারের। আদিবাসী মানুষদের কল্যাণে তাঁদের দোরগোড়ায় সমস্ত সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘জন ভাগীদারি অভিযান’ বা কর্মসূচি চালু করল রাজ্য সরকার।

সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে এক ছাদের তলায়

রাজ্য সরকারের নির্দেশের পরই, বিভিন্ন জেলায় তৎপরতার সাথে চলছে আদিবাসী উন্নয়নের কাজ। ইতিমধ্যেই নদিয়া জেলায় প্রশাসনিক উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই বিশেষ প্রকল্পের কাজ। সূত্রের খবর, নদীয়ার 5টি ব্লকের মধ্যে 9টি আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল বা গ্রামকে এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। এইসব অঞ্চলগুলিতে সরকারের বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে সমাজ সুরক্ষা প্রকল্প ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে এই বিশেষ কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে রাজ্যের কোন অঞ্চলগুলিকে এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে? কয়েকয়টি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রাজ্যের যে সমস্ত গ্রামাঞ্চলে আদিবাসীদের জনসংখ্যা 50 শতাংশের বেশি অর্থাৎ যে সমস্ত অঞ্চলে অর্ধেক বা তারও বেশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন সেই সমস্ত অঞ্চলকে এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

শোনা যাচ্ছে, নদীয়ার বিভিন্ন গ্রামের স্কুলগুলিতে আয়োজিত হবে বিশেষ শিবির। এছাড়াও কৃষ্ণনগর 1 ব্লকের জোয়ানিয়া পঞ্চায়েতের একতাপুর থেকে শুরু করে মনিপোতা, সরডাঙ্গা সহ একাধিক গ্রামে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হবে রাজ্য সরকারের তরফে। সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে যেসব অঞ্চলগুলিতে সবচেয়ে বেশি আদিবাসী শ্রেণীর মানুষের বসবাস সেই সব জায়গায় আগে খোলা হবে শিবির। এরপর একে একে বাকি অঞ্চলগুলিতেও এই শিবিরের আয়োজন করা হবে সরকারের তরফে।

অবশ্যই পড়ুন: বাংলার পাশেই রয়েছে চোখ ধাঁধানো গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, ঘুরে আসুন এক দিনেই

সরকারি সূত্র মারফত খবর, আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল গুলিতে সরকারের তরফে যে শিবিরের আয়োজন করা হবে সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক সহ সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা। ওই শিবির থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের ডিজিটাল পরিচয় পত্র, জাতিগত শংসাপত্র তৈরির জন্য আবেদন এবং সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা সহ নানান সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের নাম নথিভুক্তকরণ হবে। পাশাপাশি আদিবাসী পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বন্দোবস্তও করা হবে। এক কথায়, একই ছাদের তলায় মিলবে অসংখ্য পরিষেবা।