বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: অভাবকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। দুবেলা পরিবারের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য মা বাড়ি বাড়ি বাসন ধুতেন। সেই পরিবারেই যেন পদ্ম হয়ে ফুটেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার লুঙ্গি এনগিডি। তিনিই এবার দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন (South Africa T20 League Hat-trick)। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, চলতি SA20 লিগের প্রথম হ্যাটট্রিক এটিই।
দুর্ধর্ষ হ্যাটট্রিক লুঙ্গি এনগিডির
বুধবার, দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগে মুখোমুখি হয়েছিল জস বাটলারদের ডারবানস সুপার জায়ান্টস এবং সৌরভ গাঙ্গুলির প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস। সেই আসরেই প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রতিপক্ষকে 202 রানের লক্ষ্য দেয় সৌরভ গাঙ্গুলির দল। পরবর্তীতে সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে 186 রানেই গুটিয়ে যায় ডারবান। তাতে 15 রানে জয় তোলে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস।
অবশ্যই পড়ুন: বিজয় হাজারেতে সেঞ্চুরি, বাবর আজমের বিশ্বরেকর্ড গুঁড়িয়ে দিলেন রুতুরাজ গায়কওয়াড়
না বললেই নয়, বুধবার সৌরভের দলের জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা পেসার লুঙ্গি এনগিডির। এদিন ডারবানের ইনিংস চলাকালীন বল করতে নেমে এক ওভারে পরপর তিনটি উইকেট তুলে নেন তিনি। আর তাতেই হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়ে ফেলেন প্রোটিয়া ক্রিকেটার। বলাই বাহুল্য, চলতি দক্ষিণ আফ্রিকার টি টোয়েন্টি লিগে প্রথম বোলার হিসেবে এই হ্যাটট্রিক গড়লেন এনগিডি।
চরম দারিদ্রতার মধ্য থেকেও স্বপ্ন পূরণ করেছেন লুঙ্গি এনগিডি
আজ জনপ্রিয়তার শিখরে থাকলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার লুঙ্গি এনগিডির অতীত একেবারে অন্ধকারে ঢাকা। যাঁরা এই প্রোটিয়া তারকার অতীত সম্পর্কে জানেন তারা জানবেন, এই ক্রিকেটারের শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্রতার মধ্যে দিয়ে। একটা সময় দুবেলা দু’মুঠো পেট ভরে খাওয়ার জুটত না লুঙ্গির। সংসারের অভাব দূর করতে তাঁর মা কাজ করতেন অন্যের বাড়িতে।
অবশ্যই পড়ুন: স্বপ্ন পূরণের পথে কলকাতা মেট্রো, জোকা-এসপ্ল্যানেড লাইনে বড় কাজ সারল TBM দুর্গা
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, স্থানীয় বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে ঘুরে বাসন মাঝতেন লুঙ্গির মা। তাতে দু চার পয়সা যা আয় হতো তা দিয়েই চলতো সংসার। তাছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটারের বাবা সেই সময়ে একটি বিদ্যালয়ের কেয়ারটেকার ছিলেন। তাতেও যে খুব একটা আয় হতো তেমনটা নয়। তবে পরিবারের চরম দারিদ্রতার মধ্যে দিয়েও ক্রিকেটকে একেবারে আঁকড়ে ধরেছিলেন এনগিডি। শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের দ্রুতগতির বোলিং দিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তারপর একে একে সমস্ত ধাপ উতরে শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলে সুযোগ হয় লুঙ্গির। সেই ছেলেই এবার ইতিহাস লিখলেন।












