সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য ১৭ বছরের জেল! পাকিস্তানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

Published:

Pakistan
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সন্ত্রাসের দেশে (Pakistan) মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এবার উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। বালুচিস্তান ঘিরে চলমান অস্থিরতার মাঝেই সামনে আসলো বিতর্কিত ঘটনা, যার মধ্যে মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি-হাজির এবং তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে কঠোর সাজা আর নিরাপত্তা অভিযানে সাধারণ নাগরিকদের গ্রেফতার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জানা গিয়েছে, সামান্য সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্যই নাকি দেওয়া হয়েছে ১৭ বছর কারাদণ্ড! কিন্তু ঘটনাটি কী?

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ১৭ বছরের জেল

পাকিস্তানের পরিচিত মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি-হাজির এবং তাঁর স্বামী হাদি আলি চট্টাকে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করেই ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে খবর। আর এই ঘটনাকে ঘিরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের সহনশীলতা এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিয়ে বিতর্ক উঠতে শুরু করেছে গোটা দেশে। এমনকি মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশের জন্য এত কঠোর শাস্তি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বেশ উদ্বেগজনক।

এদিকে বালুচিস্তান প্রদেশের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান চালিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সূত্র অনুযায়ী খবর, ফ্রন্টিয়ার কর্পস এবং পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে একাধিক শহরে তল্লাশি করে, এবং অন্তত ১৮০ জনকে আটক করে। সবথেকে বড় ব্যাপার, জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে জঙ্গি হামলা আর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পরেই এই অভিযান জোরদার করা হয়।

তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নেতা ও পিএমএলএন-র শীর্ষ নেতা রানা সানাউল্লাহ এক মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ইসলামাবাদে আয়োজিত আম্মা জাহাঙ্গীর সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদী হামলার পর নিরাপত্তা অভিযানে নিরাপদ ব্যক্তিরাও আটক হতে পারে। আর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই মানবাধিকার সংগঠন এবং বিরোধী মহলে শুরু হয় জোড় আলোচনা।

জানা যাচ্ছে, “বালুচিস্তান সংকট সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে কিনা” শীর্ষক এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন আখতার মেঙ্গল (BNP-M প্রধান), আবদুল মালিক বালোচ (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী) এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক মুজাহিদ বারেলভি। আর সেখানে নিরাপত্তা চৌকি প্রত্যাহার, নাগরিক নিরাপত্তা এবং আটক ইস্যু নিয়েও ওঠে নানা রকম প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: দোল উৎসবের জন্য এখনই পাঁচ জোড়া হোলি স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল, কোন কোন রুটে?

এ বিষয়ে আব্দুল মালিক বলেন, সশস্ত্র বিদ্রোহ আর জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া এই দুই সমস্যা বালুচিস্তানের সবথেকে বড় সংকট। এমনকি তিনি দাবী করেন, এলাকায় গেলে প্রতিদিন বহু মানুষ নিখোঁজ পরিবারের অভিযোগ নিয়ে তাঁর কাছে আসে সমাধানের জন্য। তিনি সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক সমাধানই তুলে ধরেন। তবে নতুন করে আবারও বালুচিস্তান সরকারের আরেক সতর্কবার্তা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কারণ, সরকার জানিয়েছে, সশস্ত্র কার্যকলাপে যুক্ত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আর মানবাধিকার সংগঠনগুলির আশঙ্কা, এতে বেআইনি আটক বাড়তে পারে, এবং আর জোরপূর্বক নিখোঁজের অভিযোগও বাড়বে। এখন দেখার, পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now