৮ বছর ধরে বেতনহীন খড়গপুরের ১৭২ জন রেলকর্মী, কাহিনী চোখে জল এনে দেবে

Published:

Kharagpur
Follow

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ রেল সম্পর্কিত এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে উঠে এল। দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ধরে কোনও পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না খড়গপুরের (Kharagpur) ১৭২ জন রেলকর্মী। তাঁরা মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে পরিবারের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দেওয়ার জন্য খড়গপুর রেলস্টেশনে কাজ করছেন। অথচ তাঁরা পাচ্ছেন না কোনও ন্যায্য টাকা। স্বাভাবিকভাবেই এত দীর্ঘ সময় ধরে বেতন আটকে থাকার ফলে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।

৮ বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না ১৭২ জন রেলকর্মী!

সকল কর্মীকে দিয়ে রেল কাজের সময়ে কাজ করিয়ে নিলেও দিনের শেষে নাকি তাঁদের মজুরি দেয়নি বলে অভিযোগ ছিল। স্বাভাবিকভাবেই এহেন ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে সর্বত্র। তবে সম্প্রতি এই সকল কর্মচারীরা আদালতের একটি রায়ে বিরাট স্বস্তি পেয়েছে। নিশ্চয়ই ভাবছেন কেমন স্বস্তি?

ফিরে যেতে হবে ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি যখন কলকাতা হাইকোর্ট এই শ্রমিকদের স্বস্তি দেয়। আদালত নির্দেশ দেয় যে ২০০১ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৯ সালের জুলাই পর্যন্ত ১০০ মাসের জন্য তাদের পূর্ণ বেতন, সুদ সহ পরিশোধ করতে হবে রেলকে। পক্ষে রায় পেতে শ্রমিকদের প্রায় ২০ বছর ধরে দীর্ঘ আইনি লড়াই করতে হয়েছিল। তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তাদের আদালত, ট্রাইব্যুনাল এবং শ্রম বিভাগের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।

কী হয়েছিল?

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনুযায়ী, আবেদনকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী বিশিষ্ট আইনজীবী অজিতেশ পান্ডে রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সমস্যাটি ২০০১ সালে শুরু হয়েছিল। সেই সময়, রেলওয়ে একটি বেসরকারি কোম্পানি, মেসার্স ডায়নামিক ইন্টারন্যাশনালের সাথে লাভ-ভাগাভাগি চুক্তিতে প্রবেশ করে। আর এই চুক্তি অনুসারে, ঠিকাদারকে স্টেশনে খাবার বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ঠিকাদার লাভের ৭৫% নিজের কাছে রাখবে এবং রেলওয়ে ২৫% পাবে সেই কথা ছিল। এই ১৭২ জন শ্রমিককে স্টল এবং ট্রলি পরিচালনার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু আসল সমস্যা দেখা দেয় যখন শ্রমিকরা তাদের মজুরি দাবি করে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে ঠিকাদার দাবি করেছিলেন যে শ্রমিকরা তার কর্মচারী নন। রেলওয়ে দাবি করেছিল যে ঠিকাদারই মজুরি প্রদানের দায়িত্বে ছিলেন। এভাবে, উভয় পক্ষই একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাতে থাকে, ফলে শ্রমিকরা মাঝখানে আটকে থাকে। কথায় আছে না রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলু খাগড়াদের প্রাণ যায়, এক্ষেত্রেও একই বিষয় হয়। অভিযোগ রেলওয়ে বা ঠিকাদার কেউই তাদের বেতন দেয়নি। ফলে, শ্রমিকরা বহু বছর ধরে মজুরি ছাড়াই থেকে যায়।

স্থায়ী চাকরির প্রলোভন!

এহেন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এতদিন ধরে সকলের সংসার কীভাবে চলছিল? সেই তথ্য আরও ভয়ানক। খড়গপুর ডিভিশন রেলওয়ে ঠিকাদার শ্রমিক কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অরবিন্দ পান্ডে বলেন যে শ্রমিকরা জীবিকা নির্বাহের জন্য “অবৈধ উপায়” অবলম্বন করেছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, তৎকালীন ক্যাটারিং ম্যানেজার শ্রমিকদের রেলওয়ে কমিশন বিক্রেতাদের মতো স্থায়ী চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারা খাদ্য বিক্রির উপর ১০-১৫% কমিশনও পাবেন। এই প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রেখে, শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যান। তারা ভবিষ্যতে স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং আয়ের আশা করেছিলেন স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু এখানেও তাঁদের রাম ধাক্কা খেতে হয়।

আরও পড়ুনঃ ফিরছেন দুই সুপারস্টার! পাকিস্তানকে টাইট দিতে এই একাদশ নিয়ে নামতে পারে ভারত

অরবিন্দ পান্ডের তদন্ত রিপোর্ট অনুসারে, যদি ১ কেজি ময়দা দিয়ে ৮০টি লুচি তৈরি করা উচিত, তাহলে তারা ১০০টি লুচি তৈরি করেছিল। যদি এক প্লেটে আলু দম ৫টি হয়, তাহলে তারা কেবল ৪টি পরিবেশন করত। চা ৭০ মিলিলিটার হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা ৫০ মিলিলিটার পরিবেশন করেছিল। এভাবে, তারা অতিরিক্ত ২০টি লুচি, অবশিষ্ট আলু, অথবা কম চা থেকে সঞ্চয় করে কিছু অর্থ উপার্জন করত। এভাবেই তারা বহু বছর ধরে টিকে থাকতে পেরেছিল। ঘটনায় নড়েচড়ে বসে আদালত। কলকাতা হাইকোর্ট তার শুনানির সময় জানিয়েছিল যে শ্রম প্রয়োগকারী কর্মকর্তা (কেন্দ্রীয়) বিষয়টি তদন্ত করেছে এবং দেখেছে যে মজুরি প্রদানে অত্যধিক বিলম্বের জন্য ঠিকাদার এবং রেল প্রশাসন উভয়ই দায়ী।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now