বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: অসমের ডিব্রুগড়ে চিন সীমান্তের একেবারে গা ঘেঁসে তৈরি মেরান বাইপাসে অবতরণ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিমান (Assam NH Plane Runway)। এদিন সি130জে যুদ্ধবিমানে করে অসমের বিশেষ মহাসড়ক কাম রানওয়েতে পৌঁছলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। বলাই বাহুল্য, সাম্প্রতিককালে চিন, বাংলাদেশের মতো বহিরাগত শক্তিদের দাপাদাপিকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে যুদ্ধের আশঙ্কাকে সঙ্গে নিয়েই চিন সীমান্তের কাছে এই বিশেষ মহাসড়কে নামানো হচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনার একের পর এক যুদ্ধবিমান। শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে জরুরীকালীন পরিস্থিতিতে এখানেই অবতরণ করানো হতে পারে ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের ফাইটার জেটগুলিকে।
ভারতের বিশেষ রানওয়ে চমকে দেবে শত্রুদের!
সাম্প্রতিককালে ভারতের দিকে যাঁরাই লাল চোখ তুলেছে, তাঁদেরকেই ঠারেঠোরে ভারতীয় সেনাবাহিনী বুঝিয়ে দিয়েছে এদেশের মাটি শক্ত। এখানে সহজে কোনও শত্রুর হামলা চলে না। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশ এবং চিন যেভাবে ভারতের দিকে কড়া নজর রেখে চলেছে তাতে ভবিষ্যতে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে ভারতীয় বায়ুসেনাকে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়ে পাল্টা হামলার জন্য দ্বিতীয় চিন্তা না করতে হয়, সে জন্যই অসমের ডিব্রুগড়ের মেরান হাইওয়েটির পাশের 127 নম্বর জাতীয় সড়কটিকে রানওয়েতে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আগেই এই জাতীয় মহাসড়কে সুখোই 30, তেজসের মতো শক্তিশালী বিমান অবতরণ এবং টেক অফ করে পরীক্ষা চালিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। আর তারপরই মেরান হাইওয়ের পার্শ্ববর্তী 127 নম্বর জাতীয় সড়কের 4.2 কিলোমিটার অংশটিকে যুদ্ধবিমানের জরুরি অবতরণের জন্য ব্যবহার করছে ভারতীয় বায়ুসেনা। যেখানে এবার অবতরণ করল খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিমান। তবে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে কী এমন বিশেষত্ব রয়েছে এই হাইওয়ে কাম রানওয়ের?
এই রানওয়ের বিশেষত্ব কী?
অসমের ডিব্রুগড় জেলার মেরানের পার্শ্ববর্তী 127 নম্বর জাতীয় সড়কের 4.2 কিলোমিটার অংশটিকে ইমারজেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি হিসেবে ব্যবহার করতে চায় ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই মতোই, জাতীয় সড়কটিতে যাতে ভারতের সমস্ত অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান অবতরণ এবং টেক অফ করতে পারে তার যাবতীয় সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই রানওয়ে ভারতের কাছে বিশেষ তার অন্যতম কারণ এটি চিন সীমান্ত থেকে মাত্র 450 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানেই শেষ নয়, এই হাইওয়ে বা রানওয়ের আরেক বিশেষত্ব হলো এটি প্রতিবেশী বাংলাদেশের সিলেট সীমান্ত থেকে 600 কিলোমিটার এবং রংপুর সীমান্ত থেকে মাত্র 700 কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।
অবশ্যই পড়ুন: সুখবর, জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো রুটে শেষ হল বড় কাজ!
ফলে, আগামী দিনে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে এই হাইওয়ে কাম রানওয়েটিকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করতে পারবে ভারতীয় বায়ুসেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যুদ্ধ চলাকালীন যদি শত্রুর মিসাইল ভারতের এয়ার বেস বা বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়েও দেয় সেক্ষেত্রে ভারতীয় বায়ু সেনার যুদ্ধ বিমান গুলিকে জরুরী ভিত্তিতে এই রানওয়েতে অবতরণ করানো যাবে। তাছাড়াও যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান এনে এই রানওয়েতে দাঁড় করিয়ে রাখতে পারবে IAF। সবমিলিয়ে, 127 নম্বর জাতীয় সড়কের 4.2 কিলোমিটার অংশ ভারতের জন্য ম্যাজিক ফিগার হয়ে উঠতে চলেছে।











