প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সমকামী হয়েও সমাজ এবং পরিবারের চাপে তরুণীকে বিয়ে করতে হয়েছিল গ্রামেরই এক যুবককে। দেখতে দেখতে সেই বিয়ের বয়স গড়িয়েছে চার বছর। তাঁদের তিন বছরের পুত্রসন্তানও রয়েছে। কিন্তু আচমকা তৃতীয় ব্যক্তির আগমনে সংসারের পতন ঘটল। জানা গিয়েছে বিহারের তরুণীর প্রেমে পড়ে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য রামপুরহাট মহকুমা আদালতের দ্বারস্থ হলেন বীরভূমের (Birbhum) গৃহবধূ ইন্দ্রানী।
জোর করে দেওয়া হয়েছিল বিয়ে
গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার রামপুরহাট মহকুমা আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছেন বীরভূমের গৃহবধূ ইন্দ্রাণী দালাল। তাঁর দাবি, ছোটবেলা থেকেই তিনি সমকামী। তবে পরিবারের লোকজন তাঁর কথায় আমল দিতেন না। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে বিয়ের জন্য পাত্র দেখতে শুরু করেন পরিজনেরা। কার্যত জোর করে ওই গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। স্বামীকে পুরোপুরি মন থেকে নাকি কোনওদিন মানতে পারেননি ইন্দ্রাণী। চার বছরের বিবাহিত জীবনে তাঁর এক তিন বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে। আর এসবের মাঝেই আগমন হয় তৃতীয় ব্যক্তির।
বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন গৃহবধূর
জানা গিয়েছে, বছরদুয়েক আগে সোশাল মিডিয়ায় বিহারের বাসিন্দা প্রীতি কুমারীর সঙ্গে আলাপ হয় ইন্দ্রাণী দালালের। বন্ধুত্ব ক্রমেই গভীর থেকে গভীরতর হয়। শেষ পর্যন্ত দু’জনে একসঙ্গে থাকবেন বলে স্থির করেন। তাই অনেক ভাবনাচিন্তার পর ইন্দ্রাণী স্থির করেন বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করবেন। রামপুরহাট আদালতে গিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানান বধূ। বর্তমানে ঘরছাড়া ইন্দ্রাণী। পরিবারের লোকজনের দাবি, হয়তো প্রীতির সঙ্গেই কোথাও রয়েছেন তিনি। যদিও সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: অসমের জাতীয় সড়কে হারকিলিউসে করে অবতরণ, ইতিহাস লিখলেন প্রধানমন্ত্রী
ইন্দ্রানীর পরিবারের অভিযোগ বিয়ের আগেও ইন্দ্রানী নাকি নদিয়ার এক নাবালিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এমনকি তাঁরা দুজনে আহমেদাবাদে পালিয়েও গিয়েছিলেন। পরে যদিও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করেছিল। বর্তমানে দুই তরুণীই এলাকার বাইরে অন্য কোনো জায়গায় গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সমাজে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করাই তাঁদের লক্ষ্য। নিজেদের মতো বাঁচার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। যদিও গৃহবধূর এই সিদ্ধান্তে মায়ের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করতে চাইছে খুদে সন্তানও।











