প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের দামামা বাজতে চলেছে রাজ্যে। আর এই ভোট যুদ্ধের মাঝেই নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামী ১ ও ২ মার্চ রাজ্যে আসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) ফুল বেঞ্চ। প্রশাসনিক আধিকারিক এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিশনের শীর্ষ কর্তারা করবেন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। এমতাবস্থায় মৃত বা ভুয়ো ভোটারদের জন্য বিশেষ নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। যথোপযুক্ত প্রমাণ দিলেই নাকি তাঁরা দিতে পারবেন ভোট।
বিশেষ নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
রিপোর্ট মোতাবেক, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, যে সকল ভোটারের খসড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও যদি চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম না ওঠে তাহলে তাঁদের চিঠি দিয়ে কারণ জানানো হবে যে কেন তাঁর নাম বাদ গিয়েছে। এ ছাড়া, কোনও ভোটারের নাম নির্বাচনের নমিনেশনের দিন পর্যন্ত অ্যাড হতে পারে। এছাড়াও ASDD তালিকায় অর্থাৎ, মৃত-ভুয়ো-স্থানান্তরিত-অনুপস্থিতের তালিকায় যদি কোনও ভোটারের নাম থাকে, তাহলেও ভোটের দিন তিনি ভোট দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাঁকে যথোপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে সেখানে প্রিসাইডিং অফিসারের উপস্থিতিতে একটি ডিক্ল্যারেশন ফর্ম ফিলআপ করবেন এবং তখনই তথ্যগুলো প্রিসাইডিং অফিসার যাচাই করে দেখবেন। পরবর্তীতে যদি সেই তথ্যগুলো ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে ওই ভোটারের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।
ভোটের জন্য আঁটোসাঁটো পরিকল্পনা ECI- এর
জানা গিয়েছে, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি, কোন কোন বহুতল আবাসনে নতুন বুথ তৈরি করা হবে, সেই তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন বা ECI। এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। ভোট যাতে সম্পূর্ণ অবাধ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এখন থেকেই আঁটোসাঁটো পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একদিকে যেমন ভোটারদের তথ্য যাচাই ও বুথ বিন্যাসের কাজ চলছে, অন্যদিকে স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিতকরণের কাজও শুরু করেছে কমিশন। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে মার্চের শুরুতেই কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফরের পর বাংলার ভোটচিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হাওড়া-তারকেশ্বরের মধ্যে নতুন লোকাল ট্রেনের ঘোষণা রেলের, রইল সময়সূচি
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই রাজ্যের সিইও দফতর থেকে এক দফায় ভোট করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে। অর্থাৎ একদিনেই ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণের পক্ষে সওয়াল করেছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্য থেকে যে প্রস্তাব গিয়েছে, সেটার ভিত্তিতে জোরদার আলোচনা চলছে দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে। তারপর নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে এপ্রিল মাসের মধ্যেই সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। যদিও শেষ পর্যন্ত এই দফার সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।











