৩৩০০ কোটি টাকা ব্যয়, কুমার ভাস্কর বার্মা সেতু উদ্বোধন করলেন মোদী, জানুন বিশেষত্ব

Published:

Kumar Bhaskar Varma Setu
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিরাট পদক্ষেপ কেন্দ্র সরকারের। শুক্রবার ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত কুমার ভাস্কর বার্মা সেতু (Kumar Bhaskar Varma Setu) উদ্বোধন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্বোধনের পর মোদী জানিয়েছেন, এই সেতু শুধুমাত্র গুয়াহাটির যানজট কমাবে না, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে পর্যটন ও ধর্মীয় যাতায়াত সব ক্ষেত্রেই নতুন গতি আনবে।

কোথায় তৈরি হল এই সেতু?

জানিয়ে রাখি, কুমার ভাস্কর বর্মা সেতুটি নির্মিত হয়েছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ নদ ব্রহ্মপুত্রর উপর। অসমের রাজধানী শহর গুয়াহাটির এই সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ১.২৪ কিলোমিটার এবং মোট করিডর প্রকল্প ৮.৪ কিলোমিটার। প্রকল্পের জন্য মোট ৩৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ সামাল দিতেই এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

সবথেকে বড় ব্যাপার, এই সেতুর নামকরণ করা হয়েছে প্রাচীন কামরূপের রাজা কুমার ভাস্কর বর্মার নামের আদলে। উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর জন্যই মূলত এই উদ্যোগ। এদেরকে গুয়াহাটিতে নদী পারাপারের জন্য এতদিন সাধারণ মানুষের ভরসা ছিল পুরনো সেতুগুলি, বিশেষ করে সারাইঘাট সেতু। তবে নতুন সেতু চালু হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ গুয়াহাটির যোগাযোগ যে আরও দ্রুত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি দৈনন্দিন অফিস যাত্রীদের সময় বাঁচবে আর পুরনো সেতুগুলির উপরেও চাপ কমবে।

বাড়বে ব্যবসা ও পণ্য পরিবহনের গতি

এদিকে উন্নত সড়ক ও সেতু সংযোগের ফলে পণ্য পরিবহনও দ্রুত হবে এবং লজিস্টিক খরচ কমবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়বে, আর উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনীতিতে গতি আসবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সেতু অসমসহ সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক মানচিত্রে বিরাট পরিবর্তন আনবে।

আরও পড়ুন: চাকরি খুইয়ে থাকতে হবে জেলে, ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

উল্লেখ করার বিষয়, গুয়াহাটির বিখ্যাত তীর্থস্থান কামাখ্যা মন্দিরে প্রতি বছরের লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম হয়। তবে নতুন সেতু চালু হওয়ায় যাত্রাপথ আরও ছোট হবে আর যানজট কমবে। পাশাপাশি তীর্থযাত্রা আরও সহজ হবে। তাই ধর্মীয় পর্যটনের দিক থেকেও এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়াও ইতিমধ্যে সেতুর দুই পাড়ে আবাসন প্রকল্প, বাণিজ্যিক হাব এবং নতুন সংযোগ সড়ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এক কথায় অসমের জন্য এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now