সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকাল থেকে অফলাইনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবসাথী (Banglar Yuva Sathi) প্রকল্পে আবেদন শুরু হয়েছে। এমনকি আজ থেকে অনলাইনেও শুরু হয়েছে আবেদন। তবে প্রথম দিনেই একেবারে কাঁপিয়ে দিল রাজ্যের নতুন এই প্রকল্প। হ্যাঁ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকল্পটি এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটব্যাঙ্কের মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর এই প্রকল্প যে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে বিরাট সাড়া ফেলেছে তা প্রথম দিনের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।
কী বলছে পরিসংখ্যান?
প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বনির্ভর বাংলা ক্যাম্পের মাধ্যমে যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন শুরু হয়েছে। এছাড়াও এই শিবির থেকে লক্ষীর ভাণ্ডার, কৃষক বন্ধু থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকল্পের আবেদন করা যাচ্ছে। তবে শিবিরের প্রথম দিনেই যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদনের হিড়িক লাগল। বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, শনিবার স্বনির্ভর বাংলা ক্যাম্পে প্রথম দিন চারটি প্রকল্প মিলিয়ে মোট ৬ লক্ষেরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, তার মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি শুধুমাত্র যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন। অর্থাৎ, শিবিরের প্রথম দিনেই যুবসাথী প্রকল্পে প্রায় ৫ লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
উল্লেখ্য, এবার বাজেট ঘোষণার সময় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। যেখানে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে অবশ্যই তাকে মাধ্যমিক পাস করতে হবে এবং ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বয়স হতে হবে। আর এপ্রিল মাস থেকেই এই প্রকল্পের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঢোকা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কীভাবে আবেদন করবেন?
এখনও পর্যন্ত যারা যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করতে পারেননি, তারা স্থানীয় স্বনির্ভর বাংলা ক্যাম্পে গিয়ে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে সেখানে ফিলাপ করে প্রয়োজন ডকুমেন্ট যুক্ত করে জমা দিতে পারবেন। এছাড়াও আজ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন শুরু হয়েছে। এর জন্য আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে সেখানে অফলাইনের মতো যাবতীয় তথ্য দিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করে আবেদন করতে হবে।
আরও পড়ুন: যোগাযোগে বিপ্লব রেলের! সেবক থেকে প্রথম চালু হল দূরপাল্লার ট্রেন সিকিম মহানন্দা এক্সপ্রেস
ডকুমেন্ট হিসাবে মূলত মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট, আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং তপশিলি জাতি বা উপজাতি হলে কাস্ট সার্টিফিকেট জমা দিতে হচ্ছে। তাই যদি এখনও এই প্রকল্পে আবেদন না করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই আবেদন সেরে দিন এবং স্বনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যান।











