সৌভিক মুখার্জী, কাটোয়া: গতকাল ভোরে কাটোয়া স্টেশনে কাটোয়া-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেনে দাউ দাউ করে আগুন (Katwa Train Fire) লাগে। এতে একাধিক কামরা ঝলসে যায়। যদিও কোনও হাতাহাতের খবর মেলেনি। তবে এই ঘটনার পর শুরু হয়েছিল তদন্ত। আর সেখানে পৌঁছয় ফরেনসিক দল এবং পুড়ে যাওয়া কামরা থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটা কোনও শর্ট সার্কিট নয়, বরং ট্রেনের কামরার ভিতরে আগুন লাগানো হয়েছিল। আর নাশকতার ছক কষা হয়েছিল। আদৌ কি তাই?
পরিকল্পনা করে আগুন লাগানো হয়েছে ট্রেনে?
উল্লেখ্য, গতকাল ভোরবেলা কাটোয়া-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেনে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কাটোয়া স্টেশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিল ট্রেনটি। হঠাৎ করে স্থানীয়রা দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে একটি কামরায়। তারপর দমকল কর্মীরা এসে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও আগুনে তখন ভস্মীভূত হয়ে যায় কামরা। কিন্তু দমকল কর্মীরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করে যে, কোনও শর্ট সার্কিট থেকেই হয়তো আগুন লেগেছে। কিন্তু রেল এবং তদন্তকারী দল সেই কথা মানতে নারাজ। তাদের আশঙ্কা, কেউ ইচ্ছা করে বা পরিকল্পনা করে আগুন লাগিয়েছে। তাহলে কি এই ঘটনার সঙ্গে কোনও নাশকতার ছক জড়িয়ে রয়েছে? জাগছে বড়সড় প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ ভূমিহীন ক্ষেতমজুররাও পাবে কৃষক বন্ধুর ৪০০০ টাকা, সঙ্গে রাখুন এই ডকুমেন্টগুলি
এ বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেছেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি যে হয়তো বাইরে থেকেই আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে সেই গতিবিধি আমাদের নজরেও এসেছে। বিষয় ৪ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ওই ট্রেনটি কাটোয়া-আজিমগঞ্জ লাইনে আজিমগঞ্জের দিকেই যাওয়ার কথা ছিল। সকাল ছয়টা পাঁচ নাগাদ ছাড়ত ট্রেনটি। কিন্তু ফাঁকা ট্রেনের মাঝামাঝি অংশে একটি কামরায় দাউ দাউ করে আগুন লেগে যায়।
আরও পড়ুন: অটোতে রাখা ছিল বোমা, পাকিস্তানে বিস্ফোরণে মৃত শিশুসহ দুই, আহত অন্তত ১৬
ফরেনসিক দলের অনুমান, ট্রেনের ভিতরে ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করেছিল। সিট থেকেই প্রথমে আগুন ছড়ায়। তারপর সেই আগুন গোটা কামরায় ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি বৈদ্যুতিক পাখা ব্লাস্ট হয়। গোটা কামরায় এতে আগুন দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পড়ে এবং কামরাটি পুরো ছাই হয়ে যায়। ইতিমধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য কামরাগুলিকে খুব তাড়াতাড়ি আলাদা করে দেওয়াতেই আগুন খুব একটা ছড়াতে পারেনি।











