সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এবার বিরাট পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে দিল্লি। খুব শীঘ্রই সাধারণ মানুষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনাবেচা (Electricity Sale) করতে পারবে। আর এই নতুন ব্যবস্থার নাম দেওয়া হচ্ছে ভার্চুয়াল নেট মিটারিং। ইতিমধ্যেই দিল্লির ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন এই প্রকল্প সম্পর্কে নির্দেশিকা জারি করেছে। আর রাজধানীর তিনটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাকে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত ১০০০ জন গ্রাহক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী এই ভার্চুয়াল নেট মিটারিং?
ভার্চুয়াল নেট মিটারিং এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে এক জায়গায় উৎপাদিত সৌর বিদ্যুৎ একাধিক গ্রাহকের মাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া যায়। তাও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই। অর্থাৎ, যাদের নিজের বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর কোনও জায়গা নেই বা ফাঁকা স্থান নেই, তারাও সৌর বিদ্যুতের সুবিধা পাবে।
ধরুন, একটি বহুতল আবাসনে ২০ জন বাসিন্দা মিলে খালি জায়গায় একটি কমন সোলার প্ল্যান্ট বসিয়েছে। সেক্ষেত্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সবার ভিতরেই আলাদা আলাদা করে ভাগ করে দেওয়া হবে। আর প্রত্যেকে নিজের ব্যবহারের হিসাবের বিল পাবে। তবে হ্যাঁ, এর জন্য স্মার্ট মিটার দরকার পড়বে।
মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই হবে কাজ
এদিকে নতুন এই ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ কেনাবেচা করতে পারবে, নিজস্ব দর ঠিক করতে পারবে, এমনকি কত ইউনিট বিক্রি হল বা কেনা হল তা দেখতে পারবে। আর কত টাকা লাভ বা সাশ্রয় হল তাও ট্রাক করতে পারবে। সবথেকে বড় ব্যাপার, এই লেনদেনগুলো ডিজিটাল ভাবে রেকর্ড থাকবে। ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে।
আরও পড়ুন: মধ্যবিত্তদের মুখে চওড়া হাসি, অনেকটাই দাম কমল সোনা, রুপোর! দেখুন আজকের রেট
কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
ভার্চুয়াল নেট মিটারিং এর মাধ্যমে প্রথমত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় করতে পারবে গ্রাহকরা। অর্থাৎ, যারা সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে তারা সেই বিদ্যুৎ বিক্রি করে মোটা টাকা রোজগার করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, ক্রেতারা অনেক সময় সরকারি দরের থেকেও কম দামে অর্থাৎ সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পেতে পারবে। আর তৃতীয়ত, ছাদে জায়গা না থাকলেও সোলার বা সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ আসবে গ্রাহকদের কাছে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়বে আর কার্বন নিঃসরণ কমবে।












