বাংলার ৩ জেলায় এলিভেটেড করিডর, এক্সপ্রেসওয়েতে সাঁই সাঁই করে ছুটবে গাড়ি

Published:

elevated corridor
Follow

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যত সময় এগোচ্ছে ততই কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কবে এই এক্সপ্রেসওয়েটি তৈরি হবে? প্রশ্ন সকলের। একবার এই রাস্তা তৈরি হয়ে গেল কলকাতা থেকে বারাণসী কিংবা বারাণসী থেকে কলকাতা আসার সময় কমবে সেইসঙ্গে যাত্রাও হবে একদম মাখনের মতো। যদিও এই এক্সপ্রেসওয়েটি বারবার নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে কাজেও দেরি হচ্ছে। যাইহোক, এখন এই এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে বড় আপডেট সামনে উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, বাংলার ৩ জেলায় এলিভেটেড করিডর (Bengal Elevated Corridor) হচ্ছে। সবথেকে বড় কথা, গতি না কমিয়ে যাতে দ্রুত গতিতে গাড়ি ছুটতে পারে সেই ব্যবস্থাই করছে সরকার।

কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে বড় আপডেট

সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে এক জনসভায় ভাষণ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরি বলেন, দিল্লি-কলকাতা ৩১,৭০০ কোটি টাকার ছয় লেনের করিডোর ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র ঝাড়খণ্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং রাজ্যে ২ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। অর্থাৎ আর কয়েক মাসের মধ্যেই মানুষ সড়কপথে আরও সহজে এবং দ্রুত গতিতে কলকাতা থেকে বারাণসী এবং বারাণসী থেকে কলকাতা ঢুকতে পারবেন। আর এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে বাংলার তিন জেলা। এই জেলাগুলি হল পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া।

আরও পড়ুনঃ ‘রাস্তা বন্ধ, বিরাট আইনি জালে ফেঁসেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার!’ DA মামলায় বড় আপডেট

যেহেতু বন্যপ্রাণ রক্ষায় কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়েতে এলিভেটেড করিডর তৈরি করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার জঙ্গল এর থেকে ভালো বিকল্প হতে পারে না। বাঁকুড়ার জয়পুরের জঙ্গল, পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা এমনকি পুরুলিয়ার কিছু জঙ্গল এলাকা এই এক্সপ্রেসওয়ে-র ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে। কমাতে হবে না গাড়ির গতিও। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ের যে অংশ যাবে, সেখানে মোট ১০ কিলোমিটারের এলিভেটেড করিডর তৈরি করা হবে। সেই এলিভেটেড করিডর তৈরি করার ফলে গাড়ির গতি কমাতে হবে না। গাড়ি নিজস্ব গতিতেই এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ছুটতে পারবে।

কী বলছে রিপোর্ট?

আগে জানা গিয়েছিল যে প্রাথমিকভাবে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার বনাঞ্চলে মোট ৩০ কিমি অংশে এলিভেটেড করিডর তৈরি করা হবে। তবে প্ল্যানে এখন বদল ঘটেছে। বন্যপ্রাণীদের জীবন রক্ষায় যেহেতু সেই এলিভেটেড করিডর তৈরি করা হবে, সেজন্য উত্তরাখণ্ড থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসেছিল। ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরে জানান যে ১০ কিমি অংশে এলিভেটেড করিডর তৈরি করলেই হবে। সেইমতো ওই অংশে এলিভেটেড করিডর তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গ যাওয়া আরও সহজ, একগুচ্ছ হোলি স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা রেলের, দেখুন সময়সূচি

এলিভেটেড করিডর কী?

এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন এলিভেটেড করিডর কী? এর মানে হল অ্যানিম্যাল করিডর অংশ নীচে থাকবে, উপর দিয়ে গাড়ি ছুটবে। দিল্লি-কলকাতা ছয় লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ে মোট চারটি রাজ্য অতিক্রম করে, যার মধ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ। প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬১০ কিলোমিটার হলেও, এই এক্সপ্রেসওয়েতে ছয় লেনের কাজ হবে, যা আরও সম্প্রসারিত করা যেতে পারে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। অপরদিকে ৩৬,০০০ কোটি টাকার বারাণসী-রাঁচি-কলকাতা গ্রিনফিল্ড করিডোর ২০২৮ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে, এবং ১২,৮০০ কোটি টাকার রাঁচি-বারাণসী অর্থনৈতিক করিডোর ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে নির্মিত হবে বলে সম্প্রতি জানান গডকরি।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now