প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই বঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর বেড়েই চলেছে। আর এই অবস্থায় বিপাকে পড়লেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তাঁর বিরুদ্ধে এবার জলা জমির উপর ‘বেআইনি’ভাবে বাড়ি তৈরির অভিযোগ উঠল। জানা গিয়েছে বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরির জন্য হুমায়ুনপত্নী মিতা সুলতানাকে নোটিস পাঠালো ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। সাতদিনের মধ্যে যথাযথ উত্তর না পেলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
আইনি নোটিস হুমায়ূন পত্নীকে
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ২ ব্লকের নারকেলবাড়িতে হুমায়ুন কবীরের যে বাড়িটি রয়েছে সেটি স্ত্রী মিতা সুলতানার নামে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আনন্দবাজারের রিপোর্ট মোতাবেক এবার সেই বাড়িটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে যে জমির চরিত্র বদল না করেই ‘নালা’ অর্থাৎ জলাশয়ের উপরেই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। তাই সেই কারণে গতকাল অর্থাৎ বুধবার হূমায়ুন কবীরের স্ত্রীকে নোটিস পাঠাল রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর। নোটিসে জানানো হয়েছে, মানিক্যহার মৌজায় JL নম্বর ৯২, প্লট নম্বর ৪৪০৪-এ প্রায় ০.২ একর জমির চরিত্র বেআইনিভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই মর্মে একটি গণ স্বাক্ষর করা অভিযোগ পত্র জমা পড়েছে। নোটিস দেওয়ার আগামী সাত দিনের মধ্যে হুমায়ুন পত্নীকে উত্তর দিতে বলা হয়েছে। আর এই নিয়ে এবার গর্জে উঠলেন হুমায়ূন কবীর।
কী বলছেন হুমায়ূন কবীর?
সংবাদমাধ্যমে জনতা উন্নয়ন পার্টি সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা ও চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর নোটিস নিয়ে জানান , “যা খুশি করুক।২০০৩ সালে স্থানীয় ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আমি ওই জায়গাটি কিনেছিলাম। এরপর ২০০৭ সাল থেকে পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে থাকছি। প্রায় ১৭-১৮ বছর ধরে থাকি। এতদিন দেয়নি এখন আইনি নোটিস দিচ্ছে, এই বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল আসে…এত বছর পরে কেন নোটিস দিচ্ছে প্রশাসন, জবাব দিতেই হবে।” তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন দল করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয় এদিন তিনি সরাসরি নিজের জামাই ও তৃণমূলকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিও করেছেন হুমায়ূন।
আরও পড়ুন: জনসমক্ষে চাইতে হবে ক্ষমা, ২০ লাখ ক্ষতিপূরণ! বনগাঁ কাণ্ডে মিমিকে পাল্টা নোটিস
হুমায়ূন কবীর শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, “তৃণমূল একদিকে আমাদের সম্পত্তি ভোগ করতে চাইছে অন্যদিকে আবার মালদায় আমার বেয়াইদের আত্মীয়কে দিয়ে আমার জামাইকে লালগোলার তৃণমূলের বিধানসভার প্রার্থী করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এদের মতো শয়তান আর এদের মতো কুচক্রী মানুষ পাবেন বাংলায় খুঁজে?” অন্যদিকে ভাঙড়ের বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামকে নিয়েও নতুন দাবি করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, আরাবুল আমার সঙ্গে কয়েকবার দেখা করেছিল। তার অনেক স্বপ্ন আছে। আর জন্য আগে দলে জয়েন করতে হবে, তারপর তাদের নিয়ে কোনও কথা বলব। কিন্তু এবিষয়ে আরাবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।












