সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দ্রুত বিকাশের পথে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ঠিক কোন পথে এগোবে তা স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইম্প্যাক্ট সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এদিন তিনি স্পষ্ট বলেছেন, এআই যেন মানুষের উপর আধিপত্য বিস্তার না করে, বরং মানুষের কল্যাণেই যেন এআই-কে ব্যবহার করা হয়। আর এই দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত গোটা বিশ্বের মূলনীতি।
মানবকেন্দ্রিক এআই-র উপরেই জোর
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রযুক্তির অগ্রগতি অবশ্যই জরুরী। তবে তার কেন্দ্রে মানুষকে থাকতে হবে। তাঁর কথায়, মানুষ যেন কেবল ডেটা পয়েন্ট না হয়ে যায়, সকলের কল্যাণ এবং সুখ নিশ্চিত করায় আমাদের মূল লক্ষ্য হবে। তিনি প্রযুক্তির গণতন্ত্রীকরণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন বলে জানিয়েছেন। এআই যেন কয়েকটি বড় সংস্থা বা শক্তির নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ না থাকে। সমাজের প্রতিটি স্তরের উপকারেই লাগে, এমনই বার্তা তুলে ধরলেন এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এআই শাসনের নীতিগত কাঠামো ‘MANAV’
এদিন মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন, এআই পরিচালনার একটি নীতিগত রূপরেখা হল MANAV। আর মানবকেন্দ্রিক ভাবনাকে ভিত্তি করে তৈরি এই কাঠামোটি মূলত পাঁচটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে। সেগুলি হল—
- Moral and Ethical System অর্থাৎ নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রযুক্তি ব্যবস্থার উপর জোর।
- Accountable Governance অর্থাৎ এআই ব্যবহারে দায়বদ্ধ প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা।
- National Sovereignty অর্থাৎ তথ্য এবং ডেটার উপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
- Accessible and Inclusive Technology অর্থাৎ প্রযুক্তিকে সবার জন্য সহজলভ্য আর অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলা।
- Valid and Legitimate Systems অর্থাৎ আইনসম্মত এবং স্বীকৃত কাঠামোর মাধ্যমে এআই-র ব্যবহার প্রসার করানো।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি পাত্তাই দেয়নি মোদী, রাশিয়া থেকে নির্দ্বিধায় তেল কিনছে ভারত! দাবি মস্কোর
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, এআই-র বিকাশে বাধা নয়, বরং দায়িত্বশীল থাকাই স্বাধীনতা। তবে নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি মানুষের হাতেই থাকতে হবে। তিনি বলেছেন, এআই-কে আমরা বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেব, তবে নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমাদের হাতেই। এমনকি এআই-এর সম্ভাবনা বোঝাতে গিয়ে তিনি বেতার যোগাযোগের আবিষ্কারের উদাহরণ টেনে এনেছেন। তিনি জানান, একসময় কেউ কল্পনাই করেনি যে তারবিহীন যোগাযোগ গোটা পৃথিবীকে রিয়েল টাইমে যুক্ত করবে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ঠিক তেমনই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করতে চলেছে।












