প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শুধু তৃণমূল নয়, এবার বাম আমলেও শিক্ষায় নিয়োগ (Education Recruitment Case) নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠল। অভিযোগ তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে নিয়মবহির্ভূত ভাবে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে চাকরি দিয়েছেন শুধু তাই নয় সরকারি তহবিল থেকে বেতন মেটানো নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে এসেছে। যা নিয়ে সরব হয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। তাই এবার সেই সংক্রান্ত মামলায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত করার সবুজ সংকেত দিলেন বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, ২০০৭ সালে সর্বশিক্ষা মিশনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসাবে উলুবেড়িয়া ইস্ট সার্কলে যোগ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মী তিথি অধিকারী। পরে তাঁকে বালি ইস্ট সার্কলে প্রোজেক্ট অফিসার হিসাবে পাঠানো হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে কাজে গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় ২০১০ সালে তাঁর চুক্তি নবীকরণ হয়নি। জানা গিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মী তিথি অধিকারীর চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় তিনি সরাসরি তৎকালীন বাম আমলের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে-র দ্বারস্থ হন। অভিযোগ, ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে তাঁকে বিকাশ ভবনে শিক্ষা দপ্তরের বিভাগীয় সহকারী পদে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতা দখল নেওয়ার পরেই বিকাশ ভবনে বিভাগীয় সহকারী পদ থেকে তিথি অধিকারীকে বহিষ্কার করা হয়।
মামলার আবেদন খারিজ আদালতের
জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে মমতা সরকার বিকাশ ভবনে বিভাগীয় সহকারী পদ থেকে তিথি অধিকারীকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু সরকারের এই সাসপেন্ড-এর সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি ওই আধিকারিক। অভিযোগ কারণ না দর্শিয়ে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন। গতকাল অর্থাৎ বুধবার সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের বেঁচে ওঠে এই মামলা। কিন্তু মামলার আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি। এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর পদ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে কীভাবে নিয়মের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে চাকরি দিয়েছেন। এছাড়াও আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, ওই কর্মীর নাকি বেতন মেটানো হয়েছে সর্বশিক্ষা মিশনের তহবিল থেকে।
আরও পড়ুন: জলাশয় ভরাট করে বাড়ি? এবার আইনি নোটিস পাঠানো হল হুমায়ূন পত্নীকে
তদন্তের নির্দেশ
বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের জানিয়েছেন সর্বশিক্ষা মিশনের তহবিল যেহেতু সরকারি তহবিল, তাই নিয়মের বাইরে গিয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ করেছেন যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এমনকি সরকারি তহবিল থেকে তাঁর বেতন দিয়ে আর্থিক নয়ছয় করেছেন। তাই বর্তমানে রাজ্য সরকার চাইলে ওই শিক্ষামন্ত্রী কীভাবে এই অনৈতিক নিয়োগ করে সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন তার তদন্ত করতে পারবে বলে সবুজ ইঙ্গিত দিলেন বিচারপতি। ফলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই রায়ের প্রভাব যে বেশ সুদূরপ্রসারী হতে পারে, এবং নিয়োগে একাধিক গাফিলতির চিত্র সামনে আস্তে পারে বেশ বোঝা যাচ্ছে।












