সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মহাকাশের অজানা রহস্যের মধ্যে সবথেকে বড় আতঙ্ক গ্রহাণু (Asteroid)। পৃথিবীর চারপাশে প্রতিনিয়ত অসংখ্য গ্রহাণু ঘুরে বেড়ায়। কেউ ছোট আকারে ছোট, আবার কেউ বিশাল আকারের। এই গ্রহাণুগুলির গতিপথ নিয়ে সবসময়ই নজর রাখে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (NASA)। সম্প্রতি এরকমই এক ভয়ঙ্কর সম্ভাবনার ইঙ্গিত সামনে এনেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষকরা।
হ্যাঁ, বিজ্ঞানীরা দাবি করছে, এক বিশাল গ্রহাণুকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব বলছে, এটি পৃথিবীর উপর আঘাত হানলে নাকি একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার শহর ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি নিয়ে মহাকাশ গবেষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।
কতটা বড় এই গ্রহাণুটি?
গবেষকরা অনুমান করছে, এই গ্রহাণুটির আকার সাধারণ গ্রহাণুর তুলনায় অনেকটাই বড়। আর আকার বড় হওয়ার কারণে এর ভর এবং গতি দুটিই হতে পারে বিপজ্জনক মাত্রার বাইরে। ফলে এটি যদি কখনও পৃথিবীর অভিমুখে ধেয়ে আসে, তাহলে সেটিকে প্রতিহত করা কিংবা গতিপথ বদলানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আরও পড়ুনঃ আরেকটি বন্দে ভারত স্লিপারের ঘোষণা, কোন রুটে চলবে জানুন
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই গ্রহাণুটি যদি সরাসরি পৃথিবীতে আঘাত হানে, তাহলে বিপুল পরিমাণ শক্তির বিস্ফোরণ ঘটতে পারে আর হাজার হাজার শহর একেবারে নিমেষে নিশ্চিহ্ন হতে পারে। পাশাপাশি ব্যাপক জলবায়ু পরিবর্তন দেখা যাবে আর ধুলো এবং ধোঁয়ায় সূর্যালোক বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। আর এরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে তা শুধুমাত্র একটি অঞ্চল নয়, বরং গোটা পৃথিবীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আরও পড়ুন: বজ্রবিদ্যুৎ সহ কালবৈশাখী, শীত বিদায়ের পর দক্ষিণবঙ্গে আসছে বিপদ! আজকের আবহাওয়া
কবে নাগাদ এটি পৃথিবীর কাছে আসতে পারে?
যদিও এই গ্রহাণুটি ঠিক কবে পৃথিবীর কাছে পৌঁছবে সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল নয় বিজ্ঞানীরা। কিন্তু প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করা হচ্ছে যে, ২০৩২ সাল নাগাদ এটি পৃথিবীর কক্ষপথের নিকটবর্তী হতে পারে। তাই এখন থেকেই এর গতিবিধি আর ঘূর্ণন প্রকৃতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। এমনকি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবী নিজস্ব কক্ষপথে নির্দিষ্ট গতিতে ঘোরে বলেই প্রতিটি গ্রহাণু সরাসরি আঘাত হানতে পারে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা পাশ কাটিয়ে চলে যায়। কিন্তু এই বিশেষ গ্রহাণুটির আকার এবং সম্ভাব্য শক্তি নিয়ে উদ্বেগ থেকে যাচ্ছে।












