সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এসআইআর নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি এমনিতেই তোলপাড়। ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে শুনানি। ১৪ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও সেই তারিখ পিছিয়ে ২৮ তারিখ করা হয়। তবে এবার আর সময় পিছোল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ২৮ তারিখের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে বলেই জানিয়ে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
২৮ তারিখের মধ্যে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্ট এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২৮ তারিখের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এমনকি আপাতত যা তৈরি হয়েছে তাই প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজন হলে পরে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারবে নির্বাচন কমিশনর। রাজ্যের আইনজীবি এই নির্দেশ না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হবে। কিন্তু আদালত সেই আপত্তি শোনেনি। ২৮ তারিখের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, এদিন আদালত স্পষ্ট বলেছে, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সমস্ত নাম পাওয়া যাবে তা দিয়েই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজন পড়লে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে নাম যোগ করা যেতে পারে।
এমনকি পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা ব্যতিক্রমী বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। সূর্যকান্ত জানান যে, রাজ্য সরকার SIR নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের প্রয়োজন। এতে আদালতের স্বাভাবিক কাজও সাময়িক প্রভাব পড়তে বলে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং সংশ্লিষ্ট জেলা শাসক আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার জন্যই বিশেষ দায়িত্বে থাকবে। যে সমস্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে নিয়োগ করা হবে, তাদের নির্দেশই একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলে গণ্য করা হবে। আর আইন শৃঙ্খলা বজায় না রাখতে পারলে রাজ্যের ডিজিপির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা জানান বিচারপতি।
আরও পড়ুন: এখনও কেস ডায়েরি দেয়নি রাজ্য সরকার! বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে এবার হাইকোর্টে NIA
এ বিষয়ে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে বেরিয়ে বলেন, আজ সুপ্রিম কোর্টে ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এতদিন ভাবতেন যে তিনিই সব। তবে আজ সব কিছু শেষ। এতদিন ইআরওরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও বিশেষ পর্যবেক্ষকরা আটকে দিচ্ছিলেন। সন্দেহের কথা বলে সাড়ে ৭ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ারও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আদালত বলেছে, এই ধরনের যত কেস রয়েছে, সেগুলিকে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্ট বিচার বিভাগীয় অফিসার নিয়োগ করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আধিকারিকরাই।












