বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: জনতার রায়ে বাংলাদেশের সিংহাসনে বসেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির প্রধান তারেক রহমান। ওপার বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিমধ্যেই শপথ গ্রহণ করেছেন তিনি। এদিকে BNP ক্ষমতায় আসতেই একদিকে যেমন ভারতের সাথে বাংলাদেশের পুরনো ঐতিহাসিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফিরছে, ঠিক অন্যদিকে তারেক জামানা শুরু হতেই মহম্মদ ইউনূসের (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নেওয়া 132টি অধ্যাদেশ এবার ব্যাপক অনিশ্চয়তার মুখে।
বাতিল করে দেওয়া হতে পারে ইউনূসের 100 র বেশি সিদ্ধান্ত?
শেখ হাসিনার পতনের পরই বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন শাসন। শান্তিতে নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ওপার বাংলার ক্ষমতা পেতেই শুরু থেকে গত 16 ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব ছাড়ার আগে পর্যন্ত মোট 132টি সিদ্ধান্ত বা অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যার মধ্যে ভারত, শেখ হাসিনা সহ কিছু সংস্কারমূলক কার্যক্রমও রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির জারি করা এইসব অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার অন্তত এক মাসের মধ্যে আইনে রূপান্তরিত করতে হয়। আর সেটা না হলে এই অধ্যাদেশগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম আজকের পত্রিকা অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ইউনূসদের নেওয়া সংস্কার প্রক্রিয়া সহ ভারত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নির্দেশ বা সিদ্ধান্তে সহমত ছিল না বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি। এর আগে বেশ কয়েকবার BNP নেতাদের ইউনূস সরকারের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতেও দেখা গিয়েছিল। মূলত সে কারণে, তারেক রহমানের শাসনকালে শান্তিতে নোবেল জয়ীর অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বা অধ্যাদেশগুলি আদৌ আইনে রূপান্তরিত হবে কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
এ নিয়ে প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা বলছেন, বাংলাদেশের গুণগত সংস্কার এবং জনস্বার্থমূলক অধ্যাদেশ গুলো যত দ্রুত সম্ভব আইনে পরিণত হওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই কোন অধ্যাদেশ বা আদৌ কোনও অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করা যায় কিনা সেটা বিবেচনা করবে। ওপার বাংলার বিশ্লেষক মহলের অনেকেই বলছেন, ইউনূস জামানার সিদ্ধান্তগুলি শেষ পর্যন্ত বাতিলই হয়ে যেতে পারে।
অবশ্যই পড়ুন: এখনও কেস ডায়েরি দেয়নি রাজ্য সরকার! বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে এবার হাইকোর্টে NIA
প্রসঙ্গত, প্রতিবেদন অনুযায়ী ইউনূস সরকার সংস্কার, কঠোরতা এবং বৈদেশিক সম্পর্ক সম্পর্কিত যে 132টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বর্তমানে সেই সব সিদ্ধান্তগুলি পর্যালোচনা করছে। অনেকেই মনে করছেন, শেষে গিয়ে প্রত্যেকটি অধ্যাদেশ বাতিল হতে পারে। এও শোনা যাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শেখ হাসিনার দলের উপর যে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছিল সেটাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। ওপার বাংলার বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এও বলছেন, বিরোধী রাজনীতিতে বাংলাদেশে আওয়ামী লিগ সক্রিয় থাকবে। অনেকেই হয়তো জানেন, তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পরই ভারত বাংলাদেশের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া ফের চালু করা হয়েছে।












