প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অন্যের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) টাকা, ৫ বছর ধরে সমস্যায় হাওড়ার গৃহবধূ। কিছুদিন আগে রাজ্য বাজেটের সময় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে এবার থেকে মাসে ১০০০ টাকার বদলে ১৫০০ টাকা করে পাবেন মহিলারা৷ এবং এসসি, এসটি তালিকাভুক্ত মহিলারা মাসে ১২০০ টাকার বদলে ১৭০০ টাকা করে পাবেন৷ ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই অতিরিক্ত টাকা হাতে পাবেন মহিলারা৷ কিন্তু এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এক গৃহবধূ। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিতে চলেছে জেলা সমাজকল্যাণ দফতর।
অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে না কোনও টাকা
আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২১ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেছিলেন মধ্য হাওড়ার নেতাজি সুভাষ রোডের পাশে গৌড়ীয় মঠ এলাকায় একটি ভাড়া বাড়ির বাসিন্দা কবিতা মণ্ডল। লাইন দিয়ে ফর্ম তুলে আবেদন জমা দিয়েছিলেন এমনকি সেটি সরকারি ভাবে মঞ্জুরও হয়। কিন্তু পরে যখন বাকি মহিলারা ভাতা পেতে শুরু করেন, তখন তিনি দেখেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা জমা পড়েনি। ৫ বছর ধরে টাকা ঢুকছে না তাঁর। যদিও এই নিয়ে কবিতা মণ্ডল গ্রামীণ ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করেন কিন্তু সেখান থেকে জানানো হয়, সমস্যা আসলে জেলা সমাজকল্যাণ দফতরের। পরে সমাজকল্যাণ দফতরে গেলেও তাঁর সমস্যা সমাধান হয়নি।
সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কবিতা দেবী
জানা গিয়েছে খুবই কষ্ট করে দিন কাটান কবিতা মণ্ডল। তাঁর স্বামী মন্টু মণ্ডল বাতের কারণে একেবারে পঙ্গু, যার ফলে সাত বছর ধরে তিনি অফিস যান না। এদিকে বাড়িতে রয়েছেন দুই বিধবা ননদ। যার ফলে সংসারের হাল ধরতে হয় কবিতা দেবীকেই। তিনি কোনরকমে কেটারিং-এর আনাজ কেটে যেটুকু আয় হয়, তা দিয়ে চার জনের পেট চালান। এদিকে এত দুর্ভোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর কপালে রাজ্য সরকারের দেওয়া লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা জুটছে না। বরং তাঁর নামে বরাদ্দ টাকা জমা পড়ছে অজানা ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। আর তাতেই বেশ সমস্যায় পড়েছেন কবিতা মণ্ডল।
আরও পড়ুন: ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে …’ SIR মামলায় বড় মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের
জেলা সমাজকল্যাণ দফতরের এক আধিকারিকের কাছে কবিতা মণ্ডলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘এই অভিযোগ পাওয়ার পরে যে ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ওই টাকা এত দিন জমা পড়েছে, তাঁকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁকে সমাজকল্যাণ দফতরে বার বার ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো বন্ধ করে কবিতার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।’’ এখন প্রশ্ন গত পাঁচ বছরের প্রাপ্য বকেয়া টাকা কবিতা দেবী আদৌ পাবেন কিনা। যদিও দফতরের থেকে এর উত্তর অবশ্য মেলেনি।












