সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রেকর্ড গড়ল ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ১৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশের মোট ফরেক্স রিজার্ভ (Foreign-Exchange Reserves of India) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২৫.৭২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। শুক্রবারে প্রকাশিত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সর্বশেষ এক তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহে রিজার্ভ বেড়েছে ৮.৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য, এর আগে জানুয়ারি মাসে ৭২৩.৭৭৪ বিলিয়ন ডলারে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার আগের সপ্তাহের রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৭১৭.০৬৪ মার্কিন ডলার।
কোন খাতে কতটা বাড়ল?
১৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কাজ করছে। তার মধ্যে প্রথমত রয়েছে ফরেন কারেন্সি অ্যাসেটস, যা বেড়েছে ৩.৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সোনার মজুদ বেড়েছে প্রায় ৪.৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর স্পেশাল ড্রইং রাইটস বেড়েছে প্রায় ১০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে ভারতের রিজার্ভ পজিশন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৭৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার এখন প্রায় এক বছরের পণ্য আমদানির খরচ মেটানোর জন্য যথেষ্ট। পাশাপাশি দেশের মোট বহিঋণের ৯৬ শতাংশের সমান কভারেজ রয়েছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মাসিক বুলেটিন অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ১৮.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে এবং ২৮.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে। নভেম্বর মাসে বাজারে মোট ৯.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বর মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারি শুরুতে সোনার অংশ কিছুটা বেড়েছে। যার পেছনে মূল্যায়নজনিত প্রভাব কাজ করছে।
আরও পড়ুন: মাইক্রোসফটের গেমিং সিইও হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা, কে এই আশা শর্মা?
রুপির ওঠানামা
রিপোর্ট বলছে, শুক্রবার ভারতীয় রুপি ৩১ পয়সা পড়ে ডলারের বিপরীতে ৯০.৯৩ টাকায় দাঁড়ায়। আরবিআই জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগের বহির্মুখী প্রবাহ আর আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অস্থিরতার কারণে রুপির উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে পরিস্থিতি কিছুটা ঘুরেছে। বিদেশী বিনিয়োগের প্রভাব ইতিবাচক হওয়ার কারণে রুপি জানুয়ারি মাসে নিম্নস্তর থেকে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অন্তর্বর্তীকালীন ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অগ্রগতির ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আবারও ফিরতে শুরু করেছে।












