‘ভাতা সবাই দেয়, আগে চাই চাকরি’ ভোটমুখে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

Published:

Partha Chatterjee
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতির ‘মাথা’ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) মুখে শোনা গেল কর্মসংস্থানের কথা! ভাতা নিয়েও করলেন চাঞ্চল্যকর মন্তব্য। নির্বাচনের আবহে রাজ্য জুড়ে জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে উঠে পরে লেগেছে শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এই অবস্থায় ভোটমুখী বাংলায় জনসংযোগে ময়দানে নামলেন পার্থ। জেল মুক্তির পর প্রথমবার বেহালা পশ্চিম বিধানসভা ক্ষেত্রে প্রবেশ করলেন তিনি।

ভাতা প্রসঙ্গে কী বললেন পার্থ?

সরকারি ভাতা প্রসঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, “ সকলকেই দেখছি ভাতা-ভাতা করে চিৎকার করছে….।রাজ্যে ভাতা দেওয়ার ব্যাপারটাই এই প্রথম নয়। ভাতা তো বামপন্থীরাও দিয়েছে। বিজেপি সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপি-শাসিত রাজ্যেও ভাতা আছে। আমার যতদূর মনে পড়ে, আমাদের নির্বাচনী ইস্তাহারেও এ কথার উল্লেখ ছিল। ভাতা একটা অন্য মাত্রা আনে। কিন্তু এসবের মধ্যে কর্মসংস্থান সবথেকে আগে।” সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২ কোটি লোকের চাকরি দেব বলে আওয়াজ তোলা কিন্তু দুটোও দিতে পারলাম না এটা মেনে নেওয়া যায়না। কর্ম সংস্থান আমাদের প্রধান ইস্যু হওয়া উচিত।’

নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে স্পষ্ট পার্থ

পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষা দফতর প্রসঙ্গেও একাধিক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষা দফতর একটি স্বশাসিত সংস্থা। পরে ভাবখানা এমন হল যেন শাসকদলের লোক অন্য দলের লোকের বিরুদ্ধে নেমে পড়েছে। আপনারা এত দুর্নীতি দুর্নীতি করলেন। যাদের বসালেন তারা কি দুর্নীতি মুক্ত? আমি জোর গলায় বলছি কোনরকম অনিয়ম বেনিয়মের সঙ্গে আমি যুক্ত নই। কোনোদিন ছিলাম না। সময় এলে যারা আমাকে কালিমালিপ্ত করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আইনি বিষয়। তাই খুব বেশি কিছু বলতে চাইছি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের প্রতি আমার অসীম আস্থা। দল পাশে থাকল কিনা বড় কথা নয়। আমি তো আছি। আমি বেহালা পশ্চিমের মানুষ আমাকে পরপর ৫ বার বিধানসভায় পাঠিয়েছিল আমি আজ সেই মানুষের পাশে যাব।”

আরও পড়ুন: ভোট ঘোষণার আগেই বাংলায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, বড় সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

প্রসঙ্গত, টানা আড়াই বছরের বেশি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে জেলে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। এমনকী প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতে তো তাঁকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেছিল সিবিআই। তবে আপাতত জামিনে মুক্ত আছেন পার্থ। এদিকে জেল থেকে ফেরার পর তিনি বারেবারে বলেছেন, তিনি নির্দোষ। তিনি এই নিয়োগ দুর্নীতির ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। যদিও মামলা এখনও বিচারাধীন।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now