প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিজেপি করে বলেই এবার সরকারি প্রকল্প পথশ্রীর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হল একাধিক পরিবার! জানা গিয়েছে, সরকারি প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণের কাজে ঢালাইয়ের মশলা ফেলেও তা তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) জেলার কেতু্গ্রামে। শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার যেহেতু মানুষ বিজেপি করেন। আর সেই কারণেই রাস্তা ঢালাই করার পরেও তা তুলে নেওয়া হয়েছে।
রাস্তা তৈরির মশলা ফেলেও হল না কাজ
রিপোর্ট মোতাবেক, পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের নবগ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁকুরহাটি গ্রামে রাজ্য সরকারের পথশ্রী প্রকল্প নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ঠিকাকর্মীরা ওই এলাকার বিজেপি নেতা রিকু ঘোষের বাড়ির সামনে রাস্তা তৈরির মশলা ফেলেও তা কোদাল দিয়ে তুলে নিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজেপি করার জন্যই তাঁর বাড়ির সামনের অংশে ঢালাই মশলা ঢালার পরেও শাসকদলের চাপে ঠিকাদারের লোকজন ওই মশলা তুলে নিয়েছে। একাংশের অভিযোগ, কাজ চলাকালীন হঠাৎ ঠিকাদারের লোকজনের কাছে রহস্যজনক ফোন আসে আর তারপরেই মাপ নিয়ে প্রায় ২০ মিটার অংশের ঢালাই মশলা আবার রাস্তা থেকে তুলেও নেওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার নবগ্রাম পঞ্চায়েতের
জানা গিয়েছে পথশ্রী প্রকল্পে ১,১২, ৫৫০ টাকা ব্যয়ে কাঁকুরহাটি গ্রামের গলিপাড়ায় ৭০ মিটার ঢালাই রাস্তা নির্মাণের জন্য সম্প্রতি টেন্ডার হয়। স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন, ৭০ মিটার অংশেই প্রথমে কাজ শুরু হয়। এরপর ২০ মিটার বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঝামেলা এবং বিতর্ক যখন চরম আকার নেয়, তখন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নবগ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য খোকন থান্দার। তিনি দাবি করেন, ” ৫০ মিটার অংশ ঢালাই করার জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। তাই ৫০ মিটার করা হয়েছে। যদি এনিয়ে বিতর্ক হয় তাহলে পরে বাকি অংশের কাজ করে দেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন: ‘ভাতা সবাই দেয়, আগে চাই চাকরি’ ভোটমুখে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের
প্রসঙ্গত, পূর্ব বর্ধমানের নবগ্রাম পঞ্চায়েতের ২৫১ নম্বর সংসদে মোট ভোটার সংখ্যা ১০৫০ জন। বিগত লোকসভা নির্বাচনে কাঁকুরহাটি গ্রামের ওই বুথে বিজেপি শাসকদলের থেকে ৩৫ ভোটে এগিয়েছিল। তারপর থেকেই এই এলাকায় স্থানীয়দের প্রতি শাসকদলের একটা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সেখানকার বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ” আমাদের বাড়ির লোকজন বিজেপি করেন। তাই সরকারি কাজে শাসকদল এই দ্বিচারিতা করেছে। এতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কয়েকটি পরিবারকে ইচ্ছে করে সমস্যার মধ্যে ফেলা হচ্ছে।”












