রেগে স্ত্রীকে থাপ্পড় মারা কোনও ক্রাইম নয়! বড় রায় হাইকোর্টের

Published:

Gujarat High Court
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকে। তবে একদিন ঝগড়ার মধ্যে যদি স্বামী স্ত্রীকে থাপ্পড় মারে, তাহলে সেই ঘটনাকে গার্হস্থ হিংসা বা আত্মহত্যার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এমনটা জানিয়ে দিল গুজরাট হাইকোর্ট (Gujarat High Court)। হ্যাঁ, সম্প্রতি ১৯৯৬ সালের একটি মামলার প্রেক্ষিতে বড়সড় রায় দিয়েছে আদালত। কিন্তু কী ছিল সেই ঘটনা আর কেন এরকম রায় দেওয়া হল?

মামলার প্রেক্ষাপট

আসলে এই ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৬ সালের মে মাসে। গুজরাটের শাড়িগ্রাম গ্রামে স্বামীর চাষের ক্ষেত থেকে প্রমিলা নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেক্ষেত্রে প্রমিলার বাবা দাবি করেন যে, বছরখানেক আগে তাঁদের বিয়ে হয়। স্বামী দিলীপ, যার বাড়ি শাড়িগ্রামেই। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই প্রমিলাকে প্রায় মারধর এবং হেনস্থা করা হত। পারিবারিক হিংসার কারণেই তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এমনকি দিলীপের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ এবং ৩০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। সেক্ষেত্রে দায়রা আদালত সবদিক বিবেচনা করে ২০০৩ সালে দিলীপকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল এবং গার্হস্থ্য হিংসার জন্য এক বছর আর আত্মহত্যার কারণে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। তবে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিলীপ গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

হাইকোর্টে প্রমিলার মা-বাবা দাবি করেন যে, বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যাঞ্জো বাজাতেন দিলীপ। অনেক রাত করে ফিরতেন। সেই কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়সই ঝগড়া হত। আর প্রমিলাকে মারধরও করত দিলীপ। একবার দিলীপকে না জানিয়ে প্রমিলা বাপের বাড়িতে একটা রাত বেশি থেকেছিল বলে সেই কারণে তাঁকে থাপ্পড় মারা হয়েছিল। তবে এই প্রসঙ্গে আদালতের বিচারপতি গীতা গোপি স্পষ্ট জানেন যে, একদিন স্ত্রীকে থাপ্পড় মারার ঘটনা কোনওভাবেই ক্রাইম হতে পারে না। রোজকার মারধরের কথা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনওরকম পুলিশের অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এমনকি কোনও চিকিৎসার প্রমাণও নেই। আর ডাক্তারের প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: স্পিড ১৮০ কিমি, ২০২৬-এ ভারতের সবচেয়ে দ্রুতগতির ৫ এক্সপ্রেস ট্রেন, তালিকায় নেই দুরন্ত

হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়, প্রমিলা এবং দিলীপের বিয়ে এক বছরও টেকেনি। পণের দাবিতে তাঁর বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগও ওঠেনি। দিলীপের রাত করে বাড়ি ফেরাই মূলত অশান্তির কারণ ছিল। এরকম দাম্পত্য কলহ প্রত্যেক সংসারে লেগে থাকে। দাম্পত্য অশান্তির কারণে যে প্রমিলা আত্মহত্যা করেছে, সেরকম কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাই দিলীপের কাজকর্মকে কোনওভাবেই আত্মহত্যার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সেই কারণেই দিলীপকে আদালত বেকসুর খালাস করে দিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now