২০২৬-এ বাসন্তী পূজা কত তারিখে পড়ছে? দেখুন দিনক্ষণ, সময়সূচি ও আচারবিধি

Published:

Basanti Puja 2026
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০২৬ সালের বাসন্তী পূজা কত তারিখে পড়ছে (Basanti Puja 2026)? কী রয়েছে সময়সূচি আর দিনক্ষণ? তিথি-নক্ষত্রই বা কী আছে? বাসন্তী পূজা মূলত চৈত্র দূর্গা পূজা নামেও পরিচিত। আর এই পূজা চৈত্র মাসের নবরাত্রিতে পালিত হয়। ভগবান রামই দেবী দুর্গার পূজার সময়কে চৈত্র থেকে আশ্বিনে পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু পুরাণে এই বাসন্তী পূজাকেই আদি দুর্গাপূজা হিসেবে পালন করা হয়। এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের বাসন্তী পূজার সময়সূচি জানতে হলে অবশ্যই এই প্রতিবেদনটি পড়ুন।

বাসন্তী পূজা ২০২৬ কত তারিখে? | Date Of Basanti Puja 2026 |

ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০২৬ সালে বাসন্তী পূজা পড়ছে—

  • ষষ্ঠী পূজা অর্থাৎ বাসন্তী দেবীর উপবাস হবে আগামী ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার।
  • সপ্তমী পূজা বা নবপত্রিকা পড়ছে ২৫ মার্চ, বুধবার।
  • অষ্টমী পূজা বা সন্ধিপূজা পড়ছে ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার।
  • নবমী পূজা পড়ছে ২৭ মার্চ, শুক্রবার।
  • বাসন্তী দেবীর দশমী পূজা বা বিসর্জন পড়ছে ৩০ মার্চ, শনিবার।

বাংলা তারিখ হিসেবে বাসন্তী পূজার দিনক্ষণ

বাংলা ক্যালেন্ডার বলছে, এবছর বাসন্তী পূজা পড়ছে—

  • ষষ্ঠী পড়ছে ৯ চৈত্র, ১৪৩২ মঙ্গলবার।
  • সপ্তমী ১০ চৈত্র, ১৪৩২ বুধবার।
  • অষ্টমী ১১ চৈত্র, ১৪৩২ বৃহস্পতিবার।
  • নবমী ১২ চৈত্র, ১৪৩২ শুক্রবার।
  • দশমী ১৩ চৈত্র, ১৪৩২ শনিবার।

বাসন্তী পূজা ২০২৬ সময়সূচি

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী—

  • ষষ্ঠী তিথি শুরু হচ্ছে ২৩ মার্চ, সন্ধ্যা ৬:৩৮ মিনিটে এবং ষষ্ঠী তিথি শেষ হচ্ছে ২৪ মার্চ বিকাল ৪:০৭ মিনিটে।
  • সপ্তমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৪ মার্চ বিকাল ৪:০৭ মিনিটে এবং সপ্তমী তিথি শেষ হচ্ছে ২৫ মার্চ দুপুর ১:৫০ মিনিটে।
  • অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৫ মার্চ দুপুর ১:৫০ মিনিটে এবং অষ্টমী তিথি শেষ হচ্ছে ২৬ মার্চ সকাল ১১:৪৮ মিনিটে।
  • নবমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৬ মার্চ সকালে ১১:৪৮ মিনিটে এবং নবম তিথি শেষ হচ্ছে ২৭ মার্চ সকাল ১০:০৬ মিনিটে।
  • দশমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৭ মার্চ সকাল ১০:০৬ মিনিটে এবং দশমী তিথি শেষ হচ্ছে ২৮ মার্চ সকাল ৬:২৩ মিনিটে।

বাসন্তী পূজার সূচনা হল কীভাবে?

বাসন্তী পূজার সূচনা হয় চৈত্র মাসের নবরাত্রির সময় দূর্গা পূজার আয়োজনের মধ্য দিয়েই। পুরাণ মতে, রামায়ণের সঙ্গে এর ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, শ্রীরামচন্দ্র রাবণ বধের আগেই দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নিতে চেয়েছিলেন। তবে দুর্গাপূজা সাধারণত শরৎকালে হয়ে থাকে। আর রাম তখন চৈত্র মাসে দেবীকে আহ্বান করেছিলেন। সেই কারণে এই বিশেষ পূজাকে অকাল বোধন বলা হয়। আর সেই থেকেই চৈত্র মাসের দুর্গাপূজার প্রচলন শুরু হয়, যা পরে বাসন্তী পূজা রূপে আরও জনপ্রিয়তা লাভ লাভ করে।

তবে পরবর্তী সময়ে শারদীয়া দুর্গাপূজা সবথেকে জনপ্রিয় হয় বাঙালির মধ্যে। কিন্তু বহু জায়গায় এখনও পর্যন্ত বাসন্তী পূজার প্রচলন রয়েছে। আর সেখানে ধুমধাম করে আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, বিহারের কিছু অংশে এই পূজা বিশাল জনপ্রিয়। এমনকি বর্তমানে বহু রাজবাড়ীতেও বাসন্তী পূজা হয়। যকিন্তু শারদীয়া দুর্গাপূজার মতো বড় মণ্ডপ বা বিসর্জনের আয়োজন করা হয় না বললেই চলে। আর এটি পরিবার বা মন্দির ভিত্তিক পূজা হয়।

বাসন্তী পূজার সঙ্গে রামনবমীর সংযোগ

বলে রাখি, রামনবমী ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের জন্মতিথি যা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে নবমীতেই উদযাপিত হয়। আর সেই দিনটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ উৎসব হিসেবে পালিত হয়। আর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলেই তা মহাসমালয়ে উদযাপিত হয়। পুরাণ মতে, প্রেতযুগে রাক্ষসরা রাবণের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। সেই সময় ব্রহ্মার আশীর্বাদে রাবণকে কোনও দেবতা দৈত্য হত্যা করতে পারতেন না। কিন্তু একজন মানুষ পারতেন। তাই বিষ্ণু নিজেই রামের রূপে অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রানী কৌশল্যার সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেখান থেকেই এই রামনবমীর সূত্রপাত।

বাসন্তী পূজার মূল বৈশিষ্ট্য

প্রসঙ্গত, বাসন্তী পূজা মূলত প্রতিবছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে হয়, যা সাধারণত বসন্তকালেই পড়ে। তাই একে বাসন্তী পূজা বলা হয়ে থাকে। আর এটি শারদীয়া দুর্গাপূজার মতোই হয়। কিন্তু অতটা জনপ্রিয় নয়। আগে প্রচলিত ছিল। এই পুজাতে চন্ডীপাঠ থেকে শুরু করে নবপত্রিকা স্নান, অষ্টমীর অঞ্জলি, সন্ধিপূজা, বলিদান সবকিছুই হয়। আর পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গায় বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, কৃষ্ণনগরে এই পূজা ধুমধাম করেই আয়োজিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে বৈষ্ণব ভাবধারা মিশে বাসন্তী পূজাকে রামনবমীর সঙ্গে যুক্ত করে উদযাপন করা হয়।

আরও পড়ুন: শিবরাত্রির দিন এই নিয়ম মেনে করুন পূজা, মহাদেবের কৃপায় দূর হবে বিয়ের দোষ

বাসন্তী পূজা পালনের নিয়ম

বাসন্তী পূজা করতে গেলে মূলত কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। এতে মা দুর্গার বিশেষ কৃপা বর্ষিত হয়—

  • চৈত্র মাসে শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্তই এই পূজা করতে হয়।
  • তবে শারদীয়া পূজার মতো আগে বোধন প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ষষ্ঠীর আগের দিন বিল্ববৃক্ষে দেবীর আমন্ত্রণ আর অধিবাস করতে হয়।
  • সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী এই তিন দিন দেবীর বিশেষ পূজা, পুষ্পাঞ্জলি আর আরতি করা হয়।
  • এমনকি দেবীকে খিচুড়ি, আলুর দম, পায়েস, লুচি, মিষ্টি ইত্যাদি নিবেদন করা হয়।
  • অষ্টমীর সকালে পুষ্পাঞ্জলী এবং সন্ধ্যাবেলা সন্ধ্যাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
  • নবপত্রিকা বা কলাবউ স্নান করতে হয় আর পূজার বিধি পালন করতে হয়।
  • দশমীর দিন দেবীর বিসর্জন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now