সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR in Bengal) প্রক্রিয়াকে ঘিরে এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিল আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত বিচারকদের ছুটি বাতিল করে দিল। আর বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অসুস্থতা ছাড়া কেউ কোনও ছুটি নিতে পারবে না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বদলে গেল পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। সেই সূত্রে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ভোটার তালিকার সংশোধনের সময় যে তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল, তা নিষ্পত্তি করবে কলকাতা হাইকোর্টে নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। এমনকি রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের সেখানে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কলকাতা হাইকোর্টে শনিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, ডিজিপি সহ অতিরিক্ত জেনারেল এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশন প্রস্তাব দিয়েছে, প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করা হোক। আর কমিশন বিধানসভা এবং জেলাভিত্তিক অসঙ্গতির তালিকাও বিচারকদের হাতে তুলে দেবে বলে জানিয়েছে। এমনকি সোমবার থেকে পুনরায় নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ শুরু হওয়ার কথা।
আরও পড়ুনঃ ইভটিজিং থেকে জরুরি চিকিৎসা, হবে সব মুশকিল আসান! রাজ্যে চালু হল ‘সাথী’ অ্যাপ
সেক্ষেত্রে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের উপরেই। আর এত স্বল্প সময়ে এই বিশাল কাজ সম্পন্ন করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। তবে আপাতত প্রায় ২৫০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। আর রবিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক হতে পারে বলেও সূত্র মারফৎ খবর।
বাতিল হয়েছে ছুটি
এদিকে হাইকোর্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জেলা এবং দায়রা বিচারক থেকে শুরু করে অতিরিক্ত জেলা বিচারক, বিশেষ সিবিআই আদালত, বাণিজ্যিক আদালত, পকসো আদালত, এমপি, এমএলএ, বিশেষ আদালত সকলের ছুটি বাতিল করা হয়েছ। পাশাপাশি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে। আর যাদের বদলি হয়েছে, তাদের নির্দিষ্ট সময়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। এমনকি কোনওরকম ট্রানজিট লিড নেওয়া যাবে না। আর ৯ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সেমিনার স্থগিত করা হচ্ছে। সবথেকে বড় কথা, চিকিৎসাজনিত কারণে যারা ছুটিতে রয়েছেন, তাদের সোমবারের মধ্যেই কাজে ফিরতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এমনকি নির্দেশ অমান্য হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভোটের আগে তোলপাড় ভাঙড়, শওকত মোল্লার গাড়িতে বোমাবাজি! কাঠগড়ায় আইএসএফ
এদিকে এসআইআর ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন তুঙ্গে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তো একাধিক অভিযোগ তুলে বসেছেন। তাঁর দাবি, কমিশন আইন এবং আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে পোর্টালে পরিবর্তন এনেছে। যার ফলে ইআরও-দের ক্ষমতাও খর্ব হয়েছে। আর যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। অভিষেক স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, এই পদক্ষেপ জনপ্রতিনিধি যুক্ত আইনের ধারা লঙ্ঘন করছে আর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী।












