সহেলি মিত্র, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের মুখে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান (Pratik Ur Rahman)। ভোটের মুখে এহেন প্রতীক বদল রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। এদিকে তরুণ এই নেতাকে দল থেকে ইতিমধ্যেই বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে সিপিএম। যাইহোক, এক সময়ের সহকর্মীর এভাবে দলবদলকে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। একই অবস্থা মীনাক্ষী মুখার্জিরও। ফলে এ বিষয়ে এবার মুখ খুললেন নেত্রী।
প্রতীক উর রহমানকে নিয়ে মুখ খুললেন মীনাক্ষী মুখার্জি
সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতীক বলেন, ‘সেলিম গব্বর সিং। দলের রাহুল দ্রাবিড়ের মতো ইয়েস স্যর বললে তবেই কাজ পাওয়া যায়।’ এমনকি, দলের মধ্যে এখন এক নেতাকে ঘিরে ‘ডর কা মহল’ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। যদিও এই বিষয়টি মানতে নারাজ মীনাক্ষী। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা তা হলে দলে কীভাবে রয়েছি?”
মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় আরও জানান, ‘প্রতীক-উরকে নিয়ে বলার মতো মানসিক অবস্থা তাঁর নেই।’ সিপিএমের গণ অর্থ সংগ্রহ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হয় প্রতীক-উরের দলবদল নিয়ে। তিনি বলেন, ‘এই লড়াই তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে, রাজ্যে চলা গুন্ডারাজের বিরুদ্ধে, দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে বাংলাকে বাঁচানোর লড়াই। সেখানে যারা দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে থাকবেন তারা এক সঙ্গে লড়ছেন। জান কবুল করে পথে পড়ে রয়েছেন। এরকম আরও অসংখ্য কর্মীরা আছেন যারা লাল ঝান্ডা ধরবেন, ধরছেন। কমরেড প্রতীক-উরের সঙ্গে পুলিশের ব্যারিকেডের এপারে দাঁড়িয়ে মার খেয়েছি।’
তৃণমূলে সিপিএমের প্রতীক
অনেকেই হয়তো জানেন না ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা সিপিএমের প্রার্থী প্রতীক উর রহমান। এখন সেই প্রতীক উর রহমানই শনিবার অভিষেক বন্দোপাধ্যায়র সাথে বৈঠকের পর তৃণমূলে যোগ দেন। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রতীক বলেন যে তিনি বিজেপিকে বাংলা থেকে দূরে রাখার জন্য তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলায় SIR-র কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বড় পদক্ষেপ কলকাতা হাইকোর্টের
প্রতীক উর রহমান আরও বলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলই সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি। সেই কারণেই আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের সাথে যোগ দিতে এসেছি।” তিনি আরও বলেন যে সিপিএম তৃণমূল বিজেপিকে তাদের বি টিম বললেও, হুমায়ুন কবীরের মতো ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বাধীন অ-ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির সাথে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে তাদের কোনও দ্বিধা নেই।












