সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিয়ের পিঁড়িতে বসতে গেলে বা রেজিস্ট্রি করতে গেলে এবার থেকে কি বাবা-মায়ের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে? এই প্রশ্নই এখন দেশজুড়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ, গুজরাট সরকার (Government of Gujarat) বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত আইন সংশোধন এনে বাবা-মায়ের সম্মতির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই প্রস্তাব সংবিধানের স্বীকৃত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা আর প্রাপ্তবয়স্কদের স্বনির্বাচনের অধিকারকে খর্ব করতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল সরকার?
সংবিধান কী বলছে?
আমরা ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জানতে পারি, নাগরিকদের জীবন আর ব্যক্তিত্ব স্বাধীনতা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব অধিকার। আদালত বারবার ব্যাখ্যা করেছে যে, এই অধিকারে প্রাপ্তবয়স্কদের নিজের পছন্দমতো জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া সম্পূর্ণতা তাদের নিজের ব্যাপার। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালত একাধিক রায়ে স্পষ্ট করেছে যে, দুই প্রাপ্তবয়স্ক বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের অনুমতির কোনও রকম প্রয়োজন নেই।
সেই সূত্রে কয়েকটা ঘটনা উল্লেখ না করলেই নয়। প্রথমত, লক্ষ্মীবাঈ চন্দরাগি বনাম কর্ণাটক রাজ্য মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, দুই প্রাপ্তবয়স্কের বিয়ের ক্ষেত্রে পরিবার বা গোষ্ঠীর সম্মতি কোনওভাবেই অপরিহার্য নয়। ব্যক্তিগত পছন্দ মর্যাদার অংশ। আর তা গোষ্ঠী সম্মানের থেকেও বড়। পাশাপাশি শাফি জাহান বনাম কে এম অশোকন মামলায় আদালত এক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে এবং ধর্মনির্বাচন করার অধিকার বহাল রেখেছিল। এছাড়াও লতা সিং বনাম উত্তরপ্রদেশ রাজ্য মামলায় আন্তঃজাত বিয়েকে সুরক্ষা দিয়ে আদালত পরিবারকে সম্ভাব্য হিংসার উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
গুজরাট হাইকোর্ট কী বলছে?
সম্প্রতি গুজরাট হাইকোর্ট ১৬ বছরের এক কিশোরীর মামলায় রায় দিয়েছে। যেখানে সে বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে অস্বীকার করেছিল। তবে আদালত তাঁকে সরকারি হেফাজতে থাকার অনুমতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আদালতের এই রায় ব্যক্তিগত পছন্দ ও পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নকে সামনে আনছে। এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী জয়না কথারির মতে, বিবাহ নিবন্ধনের সম্মতি বাধ্যতামূলক করলে তা আন্তঃধর্ম বা আন্তঃজাত বিয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এরকম বিধান নারীর স্বায়ত্তশাসনকেও খর্ব করে।
আরও পড়ুন: বাংলায় SIR-র কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বড় পদক্ষেপ কলকাতা হাইকোর্টের
এমনকি আইনজীবীদের একাংশ বলছেন যে, একবার প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সেই ব্যক্তির নিজের সম্মতিই একমাত্র বিয়ের জন্য যথেষ্ট। অন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আর এই নীতি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক অবস্থান। তাই বাবা-মায়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।












