বিয়ে না করেও এক সন্তানের মা, মানিকতলার তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডের অতীত জানলে গর্ব হবে

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রত্যাশা মতোই মঙ্গলবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) । 291টি আসনে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেই বড় চমক দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এ বছর 74 জন সিটিং MLA কে বসিয়ে রেখে নতুন মুখেদের নির্বাচনে লড়ার টিকিট দিয়েছে শাসক দল। সেই তালিকায় নাম রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পান্ডের (Shreya Pande)। কলকাতার মানিকতলা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সেই খবর পাঁচ কান হওয়া মাত্রই সাধন কন্যাকে নিয়ে একেবারে মেতে উঠেছেন অনুরাগীরা। কিন্তু কে এই শ্রেয়া পান্ডে?

চিনে নিন তৃণমূলের মানিকতলা কেন্দ্রের মুখ শ্রেয়া পান্ডেকে

সালটা 2011। সে বছরই 34 বছরের লাল জামানার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সে বছরই বিধানসভা নির্বাচনে মানিকতলা কেন্দ্র থেকে আমজনতার রায়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তৃণমূলের দীর্ঘ সময়ের সৈনিক সাধন পান্ডে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ছায়া সঙ্গী তথা তৃণমূলের একনিষ্ঠ সৈনিক ছিলেন সাধন পান্ডে। 2022 এর 20 ফেব্রুয়ারি রাজ্যের বর্ষিয়ান নেতার মৃত্যু হয়। আর তারপরেই বাবার কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের ভরসা হয়ে ওঠেন সাধন কন্যা শ্রেয়া।

বলাই বাহুল্য, বাবা সাধন পান্ডের উপর অগাধ ভরসা ছিল মানিকতলা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের। সেই ভরসাকে কাজে লাগাতে চান তৃণমূলের টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডে। একদিন, বাবা অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার সময় বলেছিলেন, “সুবিমলকে কম্বলগুলো দিস।” বাবার সেই কথা যেন আজও মনে গেঁথে রেখেছেন শ্রেয়া। লক্ষ্য একটাই বিধানসভা নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়ে মানিকতলার মানুষের ঘরের মেয়ের মতো সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করা।

অবশ্যই পড়ুন: বাংলায় প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন মোদী, করবেন ১২ টি সভা, কোথায় কোথায়?

এবছর মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রে কনিষ্ঠতম তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন শ্রেয়া। লড়তে হবে বিজেপির অভিজ্ঞ নেতা তাপস রায়ের বিরুদ্ধে। তবে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে তাঁকে মানিকতলার গুরুদায়িত্ব দেওয়ার পরই সাধন কন্যা জানিয়েছিলেন, “সারা বছর মানুষের পাশে থাকি। মানুষের ভালবাসতেই জিতব।” লড়াই কতটা কঠিন এমন প্রশ্নের উত্তরে শ্রেয়া স্পষ্ট বলেন, “লড়াই তখন হবে যখন নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে কী কী কাজ করতে পারব সেটা দেখব। না বললেই নয়, দলের প্রার্থী তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাওয়া মাত্রই ভোটারদের দোরে দোরে যাচ্ছেন শ্রেয়া। শুরু করেছেন প্রচারও।

এদিকে প্রাণের নেতা সাধন পান্ডের মেয়ে শ্রেয়াকে মানিকতলার প্রার্থী করায় আনন্দে আত্মহারা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা। বয়োজ্যেষ্ঠরা ইতিমধ্যেই ঘরের মেয়েকে একেবারে জড়িয়ে ধরে আশীর্বাদ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই সেই সব রঙিন মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বেশ। কম বেশি সকলেই জানেন, তৃণমূল নেত্রী শ্রেয়া পান্ডে সমাজ মাধ্যমে বেশ সক্রিয়। বিভিন্ন সময় দলের হয়ে নেট দুনিয়াতেই নিজের মতামত রাখেন তিনি। এক কথায় বলতে গেলে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের নতুন মুখ হলেও শহর কলকাতায় এবং নেট দুনিয়ায় সাধন কন্যা কিন্তু পুরনো মুখ।

শ্রেয়ার আরও একটি পরিচয় আছে

মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সাধন পান্ডের মেয়ে শ্রেয়া পান্ডে আজ পর্যন্ত বৈবাহিক জীবনে পা রাখেননি ঠিকই, তবে বিয়ে না করেও তিনি এক সন্তানের মা। হ্যাঁ, বিষয়টা প্রথম প্রথম শুনলে অবাক লাগবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এর পেছনের কাহিনী জানলে চোখ ভিজবে অনেকের। সালটা 2021। সে বছর মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে একেবারে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল বাংলার বহু এলাকা। বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল এই ঘূর্ণিঝড়ের।

কমবেশি সকলেই জানেন, সে বছর ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বিধ্বস্ত সুন্দরবনের অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন লোকনাথ দাস। সুন্দরবনে যাওয়ার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। লোকনাথের মৃত্যুতে মাথার ছাদ হারিয়েছিল তাঁর সন্তানরা। সেই সময় সহকর্মীর সন্তানদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শ্রেয়া। পরবর্তীতে, বাড়িতে কিছু না জানিয়েই সিঙ্গেল মাদার হওয়ার সিদ্ধান্তটাও নিয়েছিলেন  তিনিই। 2017 সালে সারোগেসির মাধ্যমে শ্রেয়ার মা হওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি। শুনতে হয়েছিল বহু কটাক্ষ। তবে সেসব পাশ কাটিয়েই আদর ওরফে ইন্দিরাকে মানুষ করেছিলেন তিনি।

এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, শ্রেয়া পান্ডে যে সিঙ্গেল মাদার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে কথাটা বাবার সাধন পান্ডে জেনেছিলেন খবরের কাগজে দেখে। পরে মেয়ে গোটা বিষয়টি তাঁকে খুলে বললে তিনিও সবটা মেনে নেন। একবার এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া জানিয়েছিলেন, “মেয়ে ইন্দিরার নামকরণ করেছিল বাবা। এর পেছনেও একটা ছোট্ট গল্প আছে। আসলে আমার নাম রেখেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। তাই বাবা মেয়ের নাম রাখেন ইন্দিরা।” যদিও নিজের ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মাঝে মেয়েকে খুব একটা সময় দিতে পারেন না শ্রেয়া। তবে তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছিলেন, দিন শেষ বাড়িতে ফিরে মাম্মা ডাকটাই তাঁকে পৃথিবীর সর্ব সুখ এনে দেয়।”

google button