সহেলি মিত্র, কলকাতা: পুরনো সরকার হোক কিংবা নতুন সরকার, মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ (Dearness allowance) নিয়ে সাধারণ সরকারি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের মাত্রা কমতেই চাইছে না। বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা তারপরে আন্দোলন করেও মনের মতো দাবি দাবা না পূরণ হওয়ার জেরে এমনিতেই বিরক্ত হয়ে আছেন সকল কর্মীরা। অন্যদিকে বাংলায় সরকার বদলের পাশাপাশি তারা আশা করেছিলেন এবার হয়তো তাদের সুদিন আসতে চলেছে। কিন্তু কোথায় কী! এদিকে আগামী ৩০ মে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেশ কিছু সরকারি কর্মীদের সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে খবর। তবে কিছু সংগঠন সেই ডাক না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন সদস্যরা।
ডিএ নিয়ে বৈঠকে ডাক না পেয়ে ক্ষুব্ধ বহু কর্মচারী সংগঠন
সূত্রের খবর, সব সংগঠন নবান্নে যাওয়ার ডাক না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন সদস্যরা। এদিকে আগামী ৩০ মে নবান্নে যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে সেখানে বকেয়া ডিএ নিয়ে জট কাটার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, কনফেডারেশন অফ গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ়, ইউনিটি ফোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদ বৈঠকের জন্য ডাক পেয়েছে। তবে বাকিরা কী দোষ করল? সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বাম সমর্থিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী।
আরও পড়ুনঃ আর রেড রোড নয়, নামাজ পড়ার নতুন জায়গা বেছে দিল রাজ্য সরকার
তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যে দলেরই হোন না কেন, তাঁকে সব সময় নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি রেখে কাজ করতে হবে। কিন্তু বৈঠক ডাকার ক্ষেত্রে আমরা সেই নিরপেক্ষতা দেখতে পেলাম না। ২০১১ সাল থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের DA, পে কমিশন এবং নানা দাবিদাওয়া নিয়ে বারবার তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল কো-অর্ডিনেশন কমিটি। এমনকি তৎকালীন সরকারের রোষানলে পড়ে আমাদের বহু সহকর্মীকে জেলে যেতে হয়েছিল। আমরা যারা এত দিন ধরে আন্দোলন করলাম, তাদের আন্দোলনের মর্যাদা দিল না সরকার। আমরা আশা করব, নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আমাদের মতামত শুনতেও আলোচনার দরজা খোলা রাখবেন।’’
জট কাটবে ৩০ মে?
সম্প্রতি ডিএ আন্দোলনকারী তথা সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ (Bhaskar Ghosh) বড় তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানান, ‘আগামী ৩০/০৫/২০২৬ তারিখে DA মামলাকারী সব সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হবে নবান্নে।’ ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কাকে ডাকবেন, আর কাকে ডাকবেন না, এটা সম্পূর্ণ তাঁর সরকারের বিষয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের ডাকা হয়েছে, ডিএ নিয়ে আমরা যে দীর্ঘ দিন লড়াই করেছি তা মুখ্যমন্ত্রীর জানেন। যে কারণেই তাঁর এবং রাজ্য সরকারের মনে হয়েছে, ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও নিষ্পত্তি করতে গেলে আমাদের মতামত প্রয়োজন। তাই হয়তো আমাদের বৈঠকে রেখেছেন। তবে এটুকু বলতে পারি, আমরা রাজ্য সরকারের কাছে সমস্ত সরকারি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারের দাবি তুলে ধরব।’’










