হনুমান চালিশা (Hanuman Chalisa Lyrics In Bengali ) হল ভগবান হনুমানের জন্য নিবেদিত ৪০টি শ্লোকের একটি স্তোত্র। এটি ষোলশ শতাব্দীতে কবি সাধক তুলসীদাস রচনা করেছিলেন। হিন্দুদের মধ্যে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার মূল কারণ হল, বিশ্বাস করা হয় যে এটি পাঠ করলে সমস্ত বাধা দূর হয়, পাপ মোচন হয় আর আধ্যাত্মিক ও মানসিক শান্তি আসে। পাশাপাশি হনুমানের শক্তি, ভক্তি এবং রামের প্রতি শ্রদ্ধা এই হনুমান চালিশার মূল ভাবাবেগ। জানতে হলে বিশদে পড়ুন। ছবি বা pdf ডাউনলোড করতে নীচে স্ক্রল করুন !
হনুমান চালিশা বাংলা ( Hanuman Chalisha Lyrics in Bengali )
হনুমান চালিশা এর চারটি অংশ – ১) দোহা, ২) ধ্যানম্, ৩) চৌপাঈ ও ৪) দোহা । নীচে এক এক করে সব তুলে ধরা হল
দোহা – Doha
| শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি ॥ |
| বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দায়ক ফলচারি ॥ |
| বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার ॥ |
| বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ॥ |
ধ্যানম্ – Dhyanam
| গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্ ॥ |
| রামায়ণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্ ॥ |
| যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্ । |
| ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্ ॥ |
চৌপাঈ – Choupai
জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর।
জয় কপিস তিহু লোক উজাগর॥১॥
রাম দূত অতুলিত বল ধামা।
অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা॥২॥
মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী।
কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি॥৩॥
কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা।
কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা॥৪॥
হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ।
কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে॥৫॥
শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন।
তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন॥৬॥
বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর।
রাম কাজ করিবে কো আতুর॥৭॥
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া।
রামলখন সীতা মন বসিয়া॥৮॥
সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা।
বিকট রূপধরি লংক জরাবা॥৯॥
ভীম রূপধরি অসুর সংহারে।
রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে॥১০॥
লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে।
শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে॥১১॥
রঘুপতি কীন্হী বহুত বদায়ী।
তুম মম প্রিয ভরত সম ভায়ি॥১২॥
সহস্র বদন তুম্হরো য়শগাবৈ।
অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈ॥১৩॥
সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা।
নারদ শারদ সহিত অহীশা॥১৪॥
য়ম কুবের দিগপাল জহাং তে।
কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে॥১৫॥
তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা।
রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা॥১৬॥
তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা।
লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা॥১৭॥
য়ুগ সহস্র য়োজন পর ভানূ।
লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥১৮॥
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী।
জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী॥১৯॥
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে ।
সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে॥২০॥
রাম দুয়ারে তুম রখবারে।
হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥২১॥
সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা ।
তুম রক্ষক কাহূ কো ডরনা॥২২॥
আপন তেজ সম্হারো আপৈ।
তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ॥২৩॥
ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ।
মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥২৪॥
নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা।
জপত নিরন্তর হনুমত বীরা॥২৫॥
সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ।
মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥২৬॥
সব পর রাম তপস্বী রাজা।
তিনকে কাজ সকল তুম সাজা॥২৭॥
ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ।
সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ॥২৮॥
চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা।
হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা॥২৯॥
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে।
অসুর নিকংদন রাম দুলারে॥৩০॥
অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা।
অস বর দীন্ জানকী মাতা॥৩১॥
রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা।
সদা রহো রঘুপতি কে দাসা॥৩২॥
তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ।
জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥৩৩॥
অন্ত কাল রঘুপতি পুরযায়ী।
জহান জনম হরিভক্ত কহায়ী॥৩৪॥
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে।
হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে॥৩৫॥
সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা।
জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা॥৩৬॥
জয় জয় জয় হনুমান গোসায়ী।
কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী॥৩৭॥
যো শত বার পাঠ কর কোয়ী।
ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী॥৩৮॥
জো য়াহ পড়ে হনুমান চালীসা।
হোয়ে সিদ্ধি সাখী গৌরীশা॥৩৯॥
তুলসীদাস সদা হরি চেরা ।
কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা ॥ 40 ॥
দোহা – Doha
পবন তনয় সংকট হরণ – মংগল মূরতি রূপ্ ।
রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয় বসহু সুরভূপ্ ॥
সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় । পবনসুত হনুমানকী জয় । বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয় । 🙏
হনুমান চালিশা বাংলা অনুবাদ | Hanuman Chalisa in Bengali
হনুমান চালিশার সম্পূর্ণ বাংলা অনুবাদ নীচে আলোচনা করা হল। এই নিবন্ধেই আপনি হনুমান চালিশা সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন। হনুমান চালিশা মূলত আওয়াধি ভাষায় রচিত। আর এতে মোট ৪০টি শ্লোক বা চৌপাঈ রয়েছে। পাশাপাশি হনুমান চালিশার দোহা এবং ধ্যানম্ এরও বাংলা অর্থ রয়েছে, যা পাঠকদের মনে গভীর প্রভাব ফেল।
দোহার বাংলা অনুবাদ | Doha Meaning in Bengali
আমরা এখানে হনুমান চালিশা দোহার বঙ্গানুবাদ বিস্তারিত ব্যখ্যা সহ আলোচনা করলাম। আশা করি, মনোযোগ দিয়ে এটি পড়লে গভীরভাবে লাভবান হওয়া যাবে।
| পবন তনয় সংকট হরণ – মংগল মূরতি রূপ্ । রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয় বসহু সুরভূপ্ ॥ | হে আশীর্বাদের মূর্ত প্রতীক, পবন পুত্র, সমস্ত দুঃখ হরণকারী! তোমার রূপ, সবথেকে মঙ্গলময় এবং ঐশ্বরিক। তুমি আমার হৃদয়ে শ্রীরাম, লক্ষণ এবং সীতার সঙ্গে বসবাস করো।। |
ধ্যানম্ এর বাংলা অনুবাদ | Dhyanam Bengali Meaning
একইভাবে হনুমান চালিশার ধ্যানম্ এরও বঙ্গানুবাদ রয়েছে, যেগুলি জানলে হনুমান চালিশার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হওয়া যায়। নীচে ধ্যানম্ এর প্রত্যেকটি লাইনের বঙ্গানুবাদ বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
| গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্ । | আমি স্বয়ং বায়ু দেবতার পুত্র অঞ্জনেয়াকে প্রণাম করি। তিনি ভগবান বিষ্ণুর পবিত্র পায়ে ছাপের আকারকে গরুর পায়ের ছাপের আকারে ছোট করেছিলেন। এমনকি তিনিই মশাকাসুর রাক্ষসকে ধ্বংস করেছিলেন। |
| রামায়ণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্ ॥ | আমি বায়ু দেবতার পুত্রকে প্রণাম করি। তিনি মহাকাব্য রামায়ণের এক অমূল্য রত্ন।। |
| যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্ । | যেখানেই রামের মহিমা গাওয়া হয়, সেখানেই আমি হাতজোড় করে তাঁর প্রণাম করার চেষ্টা করি। |
| ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্ ॥ | আমি ভগবান হনুমানকে প্রণাম করি। তার চোখেই রয়েছে অশ্রু এবং তিনি অসুর জগতে শান্তি এনেছেন।। |
চৌপাঈ এর বাংলা অনুবাদ | Choupai Meaning in Bengali.
আগেই বলেছি হনুমান চালিশার আসল জিনিস হল এই ৪০টি চৌপাঈ বা পঙক্তি। প্রত্যেকটি শ্লোক বা চৌপাঈ আলাদা আলাদা আক্ষরিক অর্থ বহন করে, যা আমরা পাঠ করলে তার প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হতে পারব। হনুমান চালিশার এই ৪০টি চৌপাঈ এর বাংলা অর্থ বিশেষ করে বাঙালি ভক্ত ও বাঙালি পাঠকের মনে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে তুলবে, মানসিক দৃঢ়তা প্রদান করবে এবং আধ্যাত্মিক জাগরণ সৃষ্টি করবে। আমরা এখানে ৪০টি চৌপাঈ এর বাংলা অনুবাদ এবং তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আলোচনা করলাম।
| জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর। জয় কপিস তিহু লোক উজাগর॥১॥ | জ্ঞান এবং গুণের সাগর হনুমানের মূল জয়। তিন জগতের জাগরণকারী বানর বীরের জয়।। |
| রাম দূত অতুলিত বল ধামা। অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা॥২॥ | রামের দূত, অতুলনীয় শক্তি আর গতি। অঞ্জনীর পুত্র, বাতাসের বংশ বলেই সবার কাছে পরিচিত।। |
| মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি॥৩॥ | শক্তিশালী এবং বলিষ্ঠ দেহের সাথে বীর পরাক্রমশালী। বুদ্ধিমত্তা এবং প্রজ্ঞায় কে তোমাকে মেলাবে।। |
| কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা। কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা॥৪॥ | সোনালী রং এবং সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত। সঙ্গে এক কানের দুল আর কোঁকড়ানো চুল।। |
| হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ। কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে॥৫॥ | হাতে বজ্র এবং পতাকা নিয়ে শোভিত রূপ। কাঁধ এবং কোমড় জুড়ে পরা পবিত্র সুতো।। |
| শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন। তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন॥৬॥ | ভগবান শঙ্করের পুত্র এবং কেশরীর আনন্দ। সেই পরাক্রমশালী, যার মহিমা গোটা বিশ্বেই প্রশংসিত হয়।। |
| বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর। রাম কাজ করিবে কো আতুর॥৭॥ | কে জ্ঞানী, কে গুণী, কে অতি চতুর। কে রামের কাজ করতে হবে না ব্যাকুল।। |
| প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া। রামলখন সীতা মন বসিয়া॥৮॥ | যে ভক্তির সাথে ভগবান রামের দিব্য কাহিনী শ্রবণ করে। তাদের মন রাম, লক্ষণ এবং সীতার প্রেমময়ে হয় পরিপূর্ণ।। |
| সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা। বিকট রূপধরি লংক জরাবা॥৯॥ | তুমি ক্ষুদ্র রূপ ধারণ করে উপস্থিত হয়েছ সীতার সামনে। আবার ভয়ংকর রূপ ধারণ করে পুড়িয়ে দিয়েছ লঙ্কা নগরীকে।। |
| ভীম রূপধরি অসুর সংহারে। রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে॥১০॥ | ভীমের ন্যায় বিশাল রূপে অসুরকে নাশ করো তুমি। ভগবান রামের সব কাজ তুমিই পারো একমাত্র করতে।। |
| লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে। শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে॥১১॥ | সঞ্জীবনী এনে তুমি জীবন দিয়েছে লক্ষণকে। ভগবান রামের হৃদয় পূর্ণ করেছ সুখে।। |
| রঘুপতি কীন্হী বহুত বদায়ী। তুম মম প্রিয ভরত সম ভায়ি॥১২॥ | রঘুপতি (ভগবান রাম) ভরতকে খুব প্রশংসা করেছিলেন। তুমি ভরতেরই মতো তেনার পরম প্রিয় ভ্রাতা।। |
| সহস্র বদন তুম্হরো য়শগাবৈ। অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈ॥১৩॥ | হাজার মুখ তোমার মহিমা গাইবার জন্য যথেষ্ট নয়। এই বলে প্রভু রাম তোমাকে আলিঙ্গন করেন।। |
| সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা। নারদ শারদ সহিত অহীশা॥১৪॥ | স্রষ্টা ব্রহ্মা সনকা, মুনি নারদ সকলে। তোমার যথাযথ মহিমা বর্ননা করতে ব্যর্থ।। |
| য়ম কুবের দিগপাল জহাং তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে॥১৫॥ | কবি এবং পণ্ডিতরা ইত্যাদি এমনকি যমরাজ, কুবের। এবংদিগপালের মতো দেবতারাও হনুমানের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে ব্যর্থ।। |
| তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা। রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা॥১৬॥ | তুমি সুগ্রীবের একটি মহান উপকার করেছো, তাকে শ্রী রামের।। সাথে একত্রিত করে রাজকীয় সিংহাসনে স্থাপন করেছ।। |
| তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা। লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা॥১৭॥ | তোমার ভগবান রামের উপদেশ বিভীষণ মানে। লঙ্কার অধীশ্বরের (রাবণ) ভয় সম্পর্কে সমস্ত বিশ্ব জানে।। |
| য়ুগ সহস্র য়োজন পর ভানূ। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥১৮॥ | সহস্র যোজন উর্দ্ধে সূর্য্যদেবকে দেখে। ভুল করে তারে মিষ্টি ফল ভেবে গ্রাস করেছিলে।। |
| প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী। জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী॥১৯॥ | প্রভু রামের আংটি মুখে নিয়ে তুমি নির্দ্বিধায়। সমস্ত বাঁধাকে তুচ্ছ করে সাগর পারি দিয়ে ছিলে।। |
| দুর্গম কাজ জগত কে জেতে । সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে॥২০॥ | দুর্গম কাজ যা পৃথিবীতে কেউ সম্পন্ন করতে পারেনা। তা তোমার অনুগ্রহে সহজ সরল হয়ে যায়।। |
| রাম দুয়ারে তুম রখবারে। হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥২১॥ | প্রভু রামের দুয়ারে তুমি চিরকালের রক্ষী। তোমার আজ্ঞা ছাড়া কেহ না প্রবেশ করতে পারে।। |
| সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা । তুম রক্ষক কাহূ কো ডরনা॥২২॥ | তোমার কৃপায় আমি সর্বসুখ লাভ করি। তুমি যেথা রক্ষী, সেথা আর কারে ডরি।। |
| আপন তেজ সম্হারো আপৈ। তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ॥২৩॥ | নিজের তেজ, তুমি নিজেই করো সম্বরণ। তোমার হুঙ্কারে দেখো কাঁপে ত্রিভুবন।। |
| ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥২৪॥ | ভুত, প্রেত, পিশাচ কভু কাছে না আসে। মহাবীর নাম তবে যে স্মরণ করে।। |
| নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরন্তর হনুমত বীরা॥২৫॥ | রোগ, কষ্ট ও দুর্দশা সব দূর হয়। যে জন তোমার নাম জপ করে।। |
| সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥২৬॥ | বিপদ ও সংকটে একমাত্র মহাবীর হনূমান উদ্ধার করে। যে তার নাম (হনুমান ) চিরকাল ধ্যান করে।। |
| সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিনকে কাজ সকল তুম সাজা॥২৭॥ | যে মহাপ্রভু রামের ধ্যান তপস্যা করে।। তুমি তাদের সমস্ত কঠিন কাজকে সহজ করো। |
| ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ। সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ॥২৮॥ | তোমার চরণে যে অন্তরের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে সমর্পণ করে। তবে সে জীবনের সীমাহীন ফল লাভ করে।। |
| চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা। হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা॥২৯॥ | তোমার নামের খ্যাতি ছড়াবে চার যুগে। তোমার মহিমাতে আলোকিত হবে জগৎ জুড়ে।। |
| সাধু সন্ত কে তুম রখবারে। অসুর নিকংদন রাম দুলারে॥৩০॥ | হে হনুমান, তুমি রক্ষা করো সাধু সন্ত। অসুর সংহার করে তুমি শ্রী রামের প্রিয় ভক্ত।। |
| অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা। অস বর দীন্ জানকী মাতা॥৩১॥ | তুমি অষ্ট সিদ্ধি ও নব নিধির শক্তি দান করতে পারো। যা তুমি বরদান রূপে পেয়েছো, জানকি মাতার থেকে।। |
| রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা। সদা রহো রঘুপতি কে দাসা॥৩২॥ | হে হনুমান, তুমি রাম নামের অমৃতের অধিকারী। সর্বদা ভগবান রঘুপতির সেবক হয়ে থাকো।। |
| তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ। জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥৩৩॥ | তোমার আরাধনা করে, কেউ ভগবান রামের ভক্তি লাভ করতে পারে। এবং তা করে জন্ম জন্মের সমস্ত কষ্ট থেকে মুক্ত হতে পারে।। |
| অন্ত কাল রঘুপতি পুরযায়ী। জহান জনম হরিভক্ত কহায়ী॥৩৪॥ | রঘুপতি রামের সেবায়, যে জীবন নিবেদন করে। তিনি প্রতি জন্মে হরি (ভগবান বিষ্ণুর) ভক্ত হবে।। |
| ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে। হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে॥৩৫॥ | অপর কোন দেবতার প্রতি চিত্ত নিবিষ্ট না করেও কেবল।। হনুমানের সেবা করেই সর্বফল লাভ করা যেতে পারে।। |
| সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা। জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা॥৩৬॥ | রোগের সমস্ত বিপদ থেকে মুক্তি পায় সে। যে মহাবলী বীর্যবীর হনুমান কে স্মরণ করে।। |
| জয় জয় জয় হনুমান গোসায়ী। কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী॥৩৭॥ | হে প্রভু হনুমানজি, তোমার জয় হোক, জয় হোক, জয় হোক। তোমার গুরুদেবের মতোই তুমি আমাকে কৃপা করো।। |
| যো শত বার পাঠ কর কোয়ী। ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী॥৩৮॥ | এই হনুমান চালিশা যে শত বার পাঠ করবে, সে পার্থিব বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে প্রভুত্ব সুখ ও সৌভাগ্য লাভ করবে |
| জো য়াহ পড়ে হনুমান চালীসা। হোয়ে সিদ্ধি সাখী গৌরীশা॥৩৯॥ | যিনি এই হনুমান চালিশা ভক্তি সহকারে পাঠ করেন। স্বয়ং ভগবান শিব সাক্ষী, তিনি অবশ্যই সিদ্ধি লাভ করেন।। |
| তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা॥৪০॥ | তুলসীদাস (নিজ নাম) সদা প্রভু হরির ভক্ত। এই বিশ্বাস করে হৃদয়ে স্থান দাও।। |
হনুমান চালিশার ছবি

হনুমান চালিশার ইতিহাস | Hanuman Chalisa History
হিন্দু ইতিহাস অনুযায়ী কথিত রয়েছে, তুলসীদাস কারাগার থেকেই ৪০ দিন ধরে হনুমান চালিশা গেয়েছিলেন। আর এটি মন্ত্রের ৪০টি শ্লোককেই মূলত নির্দেশ করে। এমনকি এর শেষে আকবরের দরবারে বানরের একটি বাহিনী নিয়মিত জীবনকে ব্যাহত করার জন্য উপস্থিত হয়েছিল। এর ফলে অবশেষে তুলসীদাস মুক্তি পেয়েছিলেন এবং তিনি শক্তিশালী শ্লোকগুলিকে আরও শক্তি দিয়ে প্রচার করেন।
বলাই বাহুল্য, এই মন্ত্রের শ্লোকগুলি ভগবান রামের প্রতি হনুমানের গভীর ভক্তি আর আত্মসমর্পণের প্রকাশ ঘটায়। তিনি ভগবানের সেবা করার ক্ষেত্রে দৃঢ় উপাসনায় বিশ্বাস করতেন। আর তাঁর বেশ কয়েকটি নিঃস্বার্থ সেবামূলক কাজের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হনুমান যখন লক্ষণকে সেবা করার জন্য সঞ্জীবনীবুতি নামক একটি ভেষজ পর্বত বহন করে আনেন, সেই সময়টি। এমনকি তিনি সেটার জন্য ভগবানের একটি প্রতীক রেখে যাওয়ার জন্য সমুদ্রের ওপারে ভ্রমণ করেছিলেন। আর এই সমস্ত সাহসিকতা ও নিঃস্বার্থতার কাজই শ্লোকে বর্ণিত রয়েছে।
হনুমান চালিশা পাঠের নিয়ম ও সময় | Hanuman Chalisa and Time
হনুমান চালিশা পড়ার কোনওরকম নির্দিষ্ট নিয়ম বা বাধ্যতামূলক কিছু নেই। তবে এমন কয়েকটি বিষয় মেনে চলতে হয়, যাতে ভক্তদের আরও ভগবান হনুমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি ফুটে ওঠে। এমনকি সেগুলি পালন করে হনুমান চালিশা পাঠ করা শুরু করলে ভক্তদের মনে বিশুদ্ধতা এবং ভগবানের শক্তির অস্তিত্ব নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সেগুলি হল—
- ভক্তি: অবশ্যই প্রতিটি শ্লোকের অর্থ এবং তাৎপর্যের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে হবে। তার জন্য পূর্ণ ভক্তি এবং একাগ্রতার সাথে হনুমান চালিশা পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: হনুমান চালিশা যে স্থানে পাঠ করা হচ্ছে, সেটি অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং বিভ্রান্তিমুক্ত করার চেষ্টা করুন।
- পবিত্রতা: হনুমান চালিশা পাঠ করার আগে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পবিত্রতা বজায় রাখা। তাই আগে থেকে স্নান বা হাত পা ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
- নৈবেদ্য: ভক্তি ও শ্রদ্ধার চিহ্ন হিসেবে অবশ্যই চালিশা পাঠের আগে বা পরে ভগবান হনুমানকে ফুল, মিষ্টি এবং ফল অর্পণ করবেন।
তবে সময় নিয়ে যদি কথা বলি, তাহলে হনুমান চালিশা আপনি যে কোনও দিন যে কোনও সময় পড়তে পারেন। তবে এটি মঙ্গলবার বা শনিবার পাঠ করলে অশেষ আশীর্বাদ বর্ষণ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
হনুমান চালিশা পাঠের উপকারিতা | Hanuman Chalisa Benifits
যদি ভক্তিভরে এবং আন্তরিকতার সাথে হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন বা আবৃত্তি করেন, তাহলে জীবনে প্রচুর উপকৃত হওয়া যায় বলেই বিশ্বাস করা হয়। হনুমান চালিশা পড়লে মূলত যে উপকারগুলি পাওয়া যায় সেগুলি হল—
১) যেকোনও বাধা অতিক্রম করা: আপনি যদি নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করেন, তাহলে জীবনে আসা যে কোনও বাধা ও অসুবিধাগুলি খুব সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবেন। বিশ্বাস করা হয় যে, নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায় এবং সাফল্য অর্জন করা যায়।
২) স্বাস্থ্যের প্রবল উন্নতি: বিশ্বাস করা হয় যে, যদি নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করা হয়, তাহলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে। এমনকি স্বাভাবিকভাবে শারীরিক ও মানসিক শক্তির বৃদ্ধি হয়। ছোটখাটো অসুস্থতা ও রোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
৩) সুরক্ষা এবং আশীর্বাদ: যদি নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করেন, তাহলে নেতিবাচক শক্তি এবং অশুভ আত্মা ভেতর থেকে বেরিয়ে যাবে। এমনটাই বিশ্বাস করা হয়। আর এটি শক্তি, সাহস এবং ভগবান হনুমানের কাছ থেকে আশীর্বাদ পাওয়ার কাজ করে।
৪) আধ্যাত্মিক উন্নতি: নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করলে আধ্যাত্মিক শক্তিরও বিকাশ হয়। এমনকি মহাশক্তির সঙ্গে ঐশ্বরিক সংযোগ স্থাপন হয়। এতে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা দূর হয় এবং আবেগ কাটিয়ে ওঠা যায়। পাশাপাশি ভক্তি, নম্রতা ও কৃতজ্ঞতার মতো ইতিবাচক গুণগুলি বাড়ে ও কর্মক্ষেত্রে সফলতা আসে।
হনুমান চালিশা PDF ডাউনলোড | Hanuman Chalisa in Bengali pdf Download
যদি হনুমান চালিশার পিডিএফ ডাউনলোড করতে চান, তাহলে নীচে লিঙ্ক দেওয়া রয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি এক ক্লিকেই ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
| হনুমান চালিশা বাংলা PDF ডাউনলোড | Download Now |
