একে অপরকে ‘মোস্ট ফেওয়ার্ড নেশন’ মর্যাদা দেওয়ার পথে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন

Published:

India-EU Trade
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাণিজ্য খাতে আরও একধাপ এগোল ভারত। প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে ভারত আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (India-EU Trade) এবার একে অপরকে ‘মোস্ট ফেওয়ার্ড নেশন’ মর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। আর খসড়া নথি অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত কোনও পক্ষই অন্য বাণিজ্য অংশীদারকে এর থেকে বেশি সুবিধাজনক শুল্ক দিতে পারবে না বলেই জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ দিনের আলোচনার পর দুই পক্ষ গত মাসে একটি সমঝোতায় পৌঁছয়। লক্ষ্য একটাই, বেশিরভাগ পণ্যে শুল্ক কমানো এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো। এমনকি আইনি অনুমোদনের এক বছর পর চুক্তি কার্যকর হতে পারে বলে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট দাবি করছে।

শুল্কে বিরাট ছাড়

প্রসঙ্গত, ওই খসড়া অনুযায়ী, প্রায় ৯৬.৬ শতাংশ বাণিজ্যকৃত পণ্যের মূল্যভিত্তিক শুল্ক কমানো হতে পারে। যার ফলে ইউরোপীয় সংস্থাগুলির প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে। এমনকি একইসঙ্গে ২০৩২ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রফতানি দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আর এই পদক্ষেপ মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক বাজারে যে আরও শক্তিশালী করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দুই পক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সয়া থেকে শুরু করে বিফ, চিনি, চাল এবং দুগ্ধজাত পণ্যের মতো কিছু কিছু কৃষি পণ্য এই চুক্তির বাইরে থাকবে। অর্থাৎ সংবেদনশীল কৃষিখাতে দেশীয় স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।

বলাই বাহুল্য, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্মত হয়েছে যে, নতুন আমদানি এবং রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানিজেশনের নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও রকম বাধা তৈরি করা যাবে না। আর ডিজিটাল বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং একটি উপযুক্ত ও সুরক্ষিত অনলাইন পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তবে হ্যাঁ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রবাহ দ্রুত করার জন্য খাদ্য সুরক্ষা এবং উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি WTO এর মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে বলে জানানো হয়েছে। আর সার্টিফিকেশন এবং অডিট প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। পাশাপাশি কাস্টমস সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন: সোনা, রুপোর দাম নিয়ে খারাপ খবর! আজকের রেট

অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

বেশ কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ অনেকটাই বাড়বে। এমনকি প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে নতুন করে গতি আসবে।