ট্রোলের জেরে ছেড়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া! মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে কামব্যাক ইমনের

Published:

Iman Chakraborty

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ‘বঙ্গবিভূষণ’ বিতর্কের জেরে, কিছুদিন আগেই স্যোশাল মিডিয়া ছেড়েছিলেন বাংলার উন্নয়ন পাঁচালির গায়িকা ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty)। এমনকি মৃত মাকে নিয়েও একাধিক ট্রোল করা হয়েছিল তাঁকে। শেষে বাধ্য হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) ছেড়েছিলেন তিনি। আর এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতে চলেছেন ইমন।

ব্যাপক ট্রোলিংয়ের মুখে ইমন

সম্প্রতি গায়িকা ইমন চক্রবর্তী বঙ্গবিভূষণ পেয়েছিলেন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। আর সেই পুরস্কার পেতেই তাঁকে নিয়ে দেদার ট্রোল শুরু হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ক’দিন আগে মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে একটি পোস্ট করেছিলেন ইমন। সেখানেও তাঁকে ছাড়েনি ট্রোলাররা। রীতিমত একেরপর এক ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয় তাঁকে। ইমন চক্রবর্তী কেন রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পাঁচালি গিয়েছেন, সেই কারণে তাঁকে তো কটাক্ষ, বিদ্রুপ করা হয়েছেই, ছাড় দেওয়া হয়নি গায়িকার প্রয়াত মাকেও। এরপরই লাইভে এসে ইমন জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত জীবন আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরবেন না তিনি। এমনকি তিনি আর সমাজমাধ্যমে আর সক্রিয় থাকবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। তবে এবার মুখ্যমন্ত্রীর কথায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিরছেন তিনি।

ইমনকে পরামর্শ মমতার

নিউজ১৮-এর সোজাসাপটা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ইমন চক্রবর্তীর প্রতি ট্রোলারদের আচরণে বিরক্তিপ্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, ” সেদিন ওঁর মায়ের মৃত্যুদিন ছিল! আমরা তো শিবাজী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, নচিকেতা চক্রবর্তী, রূপঙ্কর, রাঘব, শ্রীজাত, গণেশচন্দ্র হালুই,শ্রীজাত, বাবুল সুপ্রিয়কেও বঙ্গবিভূষণ দিয়েছি! তাহলে শুধু ইমনকে কেন একঘরে করা হল? এটা খুব খারাপ।” এর পরই তিনি ইমনকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আনসোশ্যাল লোকেদের জন্য তুমি সোশ্যাল মিডিয়া কেন ছাড়বে? বেশি করে ধর!’ এরপরই ইমন চক্রবর্তী পুনরায় সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার কথা জানান।

আরও পড়ুন: ৫টার মধ্যে জবাব চাই! রাষ্ট্রপতি মুর্মুর দার্জিলিং সফরে অব্যবস্থা নিয়ে নবান্নকে কড়া চিঠি

ইমন চক্রবর্তী একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ একজন মানুষ হিসেবে দিদিকে আমি খুব ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাটা শিরোধার্য করলাম। আসলে কষ্টটা খুব মনে পেয়েছি। কথাটা খুব মনে লেগেছে। সেই জন্য এই মন খারাপ, এটা কাটতে একটু বোধ হয় সময় লাগবে। আমার জন্য আমার পরিবারের মানুষদের কোনও খারাপ কথা বললে, সেই খারাপ লাগাটা আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। ঠিক হয়ে যাবো তাড়াতাড়ি। শীঘ্রই স্যোশাল মিডিয়াতে নিশ্চয়ই ফিরবো।’ প্রসঙ্গত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে ‘বঙ্গ সম্মান’-এর ঘোষণা করা হয়েছিল। আর সেই তালিকায় ছিলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তাঁকেও সমানভাবে ট্রোলড হতে হয়েছিল।

google button