দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই UPSC-তে ২০ তম র‍্যাঙ্ক, খান স্যারের লেকচার শুনে IAS কৃষকের ছেলে

Published:

UPSC Success Story

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাফল্য কখন যে কাকে কীভাবে ধরা দেয় তা কেউ বলতে পারে না। দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বিরাট কৃতিত্ব (UPSC Success Story) অর্জন করলেন বিহারের বাসিন্দা রবি রাজ। হ্যাঁ, বিহারের যুবক রবি রাজ গোটা দেশের মধ্যে ২০ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছেন কোনও রকম দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই। আর তাঁর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন নিজের মা এবং খান স্যার। এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে? বুঝিয়ে বলছি সবটা।

দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই কৃতিত্ব যুবকের

নিউজ ১৮-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, বিহারের নওয়াদা জেলায় আকবরপুর ব্লকের মাহুলি গ্রামের বাসিন্দা রবি রাজ শৈশবে এক অসুস্থতার কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। গ্রামের ছোট্ট একটি কৃষক পরিবারের সদস্য তিনি। আর তাঁর বাবা কৃষিকাজ করেই সীমিত উপার্জন করতেন। কিন্তু ছেলের পড়াশোনা এবং অন্যান্য চাহিদাকে কখনো অবহেলা করেননি। তবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর যখন তিনি ভেবেছিলেন যে তাঁর জীবন অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে, তখন সেই ভুল প্রমাণ করেন তাঁর নিজের মা। হ্যাঁ, রবির কাছে সাফল্যের সবথেকে বড় নায়ক ছিলেন তাঁর মা বিভা সিনহা।

জানা যাচ্ছে, একজন গৃহিণী হিসেবেই বিভা সিনহা নিজের ছেলের আইপিএস অফিসার গড়ে তোলার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তিনি রবিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বই পড়ে শোনাতেন। আর রবি সেগুলি মুখস্থ করে পড়তেন। একসাথে মা-ছেলের জুটি তাঁকে এই বিরাট কৃতিত্ব অর্জন করিয়েছে। রবি নিজেই বলেছেন যে, তাঁর সাফল্যের ৯০ শতাংশ কৃতিত্ব তাঁর মায়ের, যিনি তাঁকে কখনো অন্যদের থেকে আলাদাভাবে দেখেননি। বরং, সবসময় নিজের সর্বত্র চেষ্টা দিয়ে ছেলেকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দিয়েছেন।

খান স্যারের বক্তৃতা শুনেই সাফল্য

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবি প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বাড়িতে পড়াশোনা করতেন। আর দৃষ্টিশক্তি কম থাকা সত্ত্বেও তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পড়তেন। হ্যাঁ, তিনি নিয়মিত ইউটিউবে খান স্যারের বক্তৃতা শুনতেন। আর খান স্যারের ক্লাসগুলোর মাধ্যমেই তাঁর জীবন বদলে যায়। রবি নিজেই জানিয়েছেন যে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পেছনে মায়ের পাশাপাশি খান স্যারের অবদানও অনস্বীকার্য। শেখার আগ্রহ থাকলে অর্থাভাব বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

আরও পড়ুন: ‘আমার অনুমতি ছাড়া টিকতে পারবে না!’ মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হওয়াতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

জানা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ৫৯ তম সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় রবি রাজ উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তারপর তিনি রাজস্ব কর্মকর্তা পদে নির্বাচিত হন। তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল আইএস অফিসার হওয়ার। ২০২৪ সালে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। সেখান তিনি ১৮২ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন। পরপর তিনবার ব্যর্থ হওয়া সত্বেও চতুর্থ প্রচেষ্টায় তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। আর পঞ্চমবার প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি শীর্ষ ২০ র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন। আর এবার তিনি ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবাতে যোগ দেবেন। এক কথায়, তাঁর এই সাফল্য লক্ষ লক্ষ প্রার্থীদের জন্য যে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

google button