বিশ্বের কঠিনতম রেল প্রকল্প ভারতের! ২৭০ কিমি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চিন সীমান্তে যাবে ট্রেন

Published:

Indian Railways

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যত সময় এগোচ্ছে ততই পরিধি বাড়ছে ভারতীয় রেলের (Indian Railways)। একটা সময়ে যেখানে কোনওদিন রেললাইন হবে সেটা ভাবা যায়নি, আজ সেখানে অবধি রেল লাইন বসছে এবং ট্রেন পরিষেবা শুরু হয়েছে। সে আইফেল টাওয়ারের চেয়েও উঁচু চেনাব ব্রিজের ওপর দিয়ে ট্রেন পরিষেবা হোক কিংবা পাহাড় কেটে সেবক-রংপো রেল প্রকল্প হোক, সবই করছে রেল। যাইহোক, এখন রেল আরও এক অসাধ্য সাধন করতে চলেছে বলে খবর। শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় রেল শীঘ্রই হিমালয় পর্বতমালার মধ্য দিয়ে চীন সীমান্ত পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েছে।

এবার চিন সীমান্ত অবধি যাবে রেল

রিপোর্ট অনুযায়ী, রেলওয়ে বোর্ড বিলাসপুর-মানালি-লেহ রেল লাইন প্রকল্পের (Bilaspur-Manali-Leh railway) বিস্তারিত প্রকল্প ডিপিআর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে নাকি ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছে। প্রায় ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রেললাইনটি কেবল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি নয়, বরং বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতার রেল নেটওয়ার্কও হবে বলে মনে কয়রা হচ্ছে। পুরো রেললাইনটি ৪৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে বলে খবর। সবথেকে বড় কথা, ট্রেন ছুটতে পারে দীর্ঘ ২৭০ কিমি দীর্ঘ টানেলের মধ্যে দিয়ে।

আরও পড়ুনঃ ‘এবার সুপ্রিম কোর্ট দেখাবে অ্যাগ্রেসিভ মনোভাব’, DA মামলায় বড় আপডেট

এদিকে প্রস্তাবিত বিলাসপুর-মানালি-লেহ রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪৮৯ কিলোমিটার। এই পুরো রুটে প্রায় ৪০টি রেলস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই রেলপথটিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। উত্তর রেলওয়ে এই প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত স্থান জরিপও সম্পন্ন করেছে।

থাকবে ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল

এই রেল প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর ইঞ্জিনিয়ারিং কাঠামো। সমগ্র রেললাইনের প্রায় ৫৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৭০ কিলোমিটার, টানেলের মধ্য দিয়ে যাবে। এই প্রকল্পে মোট ৬২টি টানেল এবং ১১৬টি বৃহৎ সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই টানেল এবং সেতুগুলি পাহাড়ি অঞ্চলের কঠিন ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠবে। এই লাইনে চলাচলকারী ট্রেনগুলির সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার। একবার চালু হলে, দিল্লি থেকে লেহ ভ্রমণের সময় ৪০ ঘন্টা থেকে কমে প্রায় ২০ ঘন্টা হবে। এর ফলে লাদাখে পৌঁছানো আগের তুলনায় আরও অনেক সহজ এবং দ্রুত হবে।

আরও পড়ুনঃ বদলে গেল ভোল, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক হল সিউড়ি থেকে হলদিয়া স্টেশন 

এই প্রকল্পটি কেবল পর্যটন এবং সাধারণ ভ্রমণের জন্যই নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। বর্তমানে, ভারী তুষারপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়া প্রায়শই লাদাখের সাথে যোগাযোগ ব্যাহত হয়ে যায়। একবার এই প্রস্তাবিত রেলপথটি সম্পন্ন হলে, সারা বছর সেনা এবং প্রয়োজনীয় সরবরাহের চলাচল সম্ভব হবে। সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করবে। অর্থাৎ ভ্রমণ এবং সুরক্ষা দুইই থাকবে। এখন শুধু প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সবুজ সিগন্যালের অপেক্ষা।

google button