রাজ্য জুড়ে মুরগির দোকানে তালা! আর মিলবে না চিকেন, স্ট্রাইক ব্যবসায়ীদের

Published:

Telengana

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে। তবে শুধু দাম বৃদ্ধিতে ক্ষান্ত নয়, এর সঙ্গে জ্বালানি সংকটও (LPG Gas Crisis) পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। গ্যাস বুকিং করলেও মিলছে না পরিষেবা। একই অবস্থা দেখা দিয়েছে যাতায়াত পরিষেবার ক্ষেত্রে। মাসের শুরুতেই অটো গ্যাসের দামি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া বাড়ানোর পথে হাঁটতে চলেছেন চালকরা। এমন কঠিন পরিস্থিতির মাঝেই এবার তেলেঙ্গানায় (Telangana) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল মুরগির দোকান। মাথায় হাত পড়ল ক্রেতা বিক্রেতাদের।

মাসের শুরু থেকেই বন্ধ দোকান

রিপোর্ট মোতাবেক, মুরগি বিক্রির ক্ষেত্রে তেলঙ্গানায় বিরাট সংকট দেখা গেল। লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় রাজ্য জুড়ে সমস্ত মুরগির দোকান গতকাল অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তেলঙ্গানার ‘চিকেন শপ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ওনার্সে’র তরফে জানানো হয়েছে, মুরগি বিক্রি করে এইমুহুর্তে দোকানদারদের যে হারে লাভ হচ্ছে, সেটা এতটাই কমেছে যে, তাদের পক্ষে ব্যবসা চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও এই বিষয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দরবারও করেছে, কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

ব্যাপক ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

খুচরা দোকান মালিকরাও জানিয়েছেন যে, প্রতি কেজি মুরগির মাংসের জন্য তাঁরা যে কমিশন পেতেন, তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেজন্যই এবার তারা সংঘবদ্ধ ভাবে রাজ্য জুড়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্য দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুরগি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ জানিয়েছে যে, বিগত দুই দশক ধরে পোল্ট্রি কোম্পানিগুলো খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতি কেজিতে ২৬ টাকা করে মুনাফা বেঁধে রেখেছিল। কিন্তু এইমুহুর্তে সেই মুনাফা কমিয়ে প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা করায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন: মুখ্যসচিব-ডিজিকে শোকজ! মালদহ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুরগি বিক্রেতা জানিয়েছেন, “মুরগি আনার যাতায়াত খরচ, দোকানের ভাড়া এবং শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার পর ন্যূনতম লাভও বাকি থাকে না। সেক্ষেত্রে তাই পোল্ট্রি কোম্পানিগুলোর ইতিবাচকভাবে সাড়া দেওয়া উচিত। তারা যদি এগিয়ে না আসে তাহলে দোকানগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করবে।” মাথায় হাত পড়েছে ক্রেতাদেরও। কারণ তেলেঙ্গানার মতো একটি রাজ্যে যেখানে মাংস দৈনন্দিন খাবারের অংশ, সেখানে দাঁড়িয়ে এই ধর্মঘট স্থানীয়দের লাইফস্টাইলে আঘাত হানবে।

পশ্চিমবঙ্গেও একই পরিস্থিতি হবে?

তবে, তেলেঙ্গানায় এমন সঙ্কটের পর পশ্চিমবঙ্গেও কী মুরগির ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের আশঙ্কা রয়েছে? এই নিয়েই প্রশ্ন উঠছে চারিদিকে। তবে বাংলায় এখন মুরগির মাংসের প্রতি কেজির দাম ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা স্থান বিশেষ। ব্যবসায়ীরা বিপুল লাভে না থাকলেও ক্ষতিতে নেই। তাই আপাতত বাংলায় এমন কোনও ধর্মঘটের আশঙ্কাও তৈরি হয়নি। তবে আগামী দিনে কী হবে, সেটা এখনই বলা দায়!

google button