বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গাড়ি এবং ট্রেন ছুটবে একসাথে! ব্রহ্মপুত্র নদের নিচে দেশের প্রথম আন্ডারওয়াটার রোড-রেল টানেল (Assam Underwater Road-Rail Tunnel) গড়ে তুলতে চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব রেখেছিল অসম সরকার। এ নিয়ে বছর তিনেক আগে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছিলেন, “কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকার সেই প্রস্তাব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আশা রাখছি কেন্দ্রের তরফে অনুমতি মিলবে।” সেই মতোই, এবার অসমের গোহপুর থেকে নুমালিগড় পর্যন্ত চার লেনের গ্রিনফিল্ড করিডোর নির্মাণের অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ থেকে 15.79 কিলোমিটারের একটি আন্ডারওয়াটার রোড-রেল টানেলও।
18 হাজারেরও বেশি অর্থ খরচ হবে গোটা প্রকল্পে
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, গোহপুর থেকে নুমালিগড় পর্যন্ত যে 4 লেনের গ্রিনফিল্ড করিডোর নির্মাণের অনুমতি মিলেছে সেটি প্রায় 33.7 কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ। রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্রের নিচ থেকে প্রায় 16 কিলোমিটারের আন্ডারওয়াটার রোড-রেল টানেল নিয়ে গোটা প্রকল্পটিতে সরকারের খরচ পড়বে কম করে 18 হাজার 662 কোটি টাকা। তবে একবার যদি ব্রহ্মপুত্রের নিচ থেকে আন্ডারওয়াটার রোড রেল টানেল তৈরি করা যায় সে ক্ষেত্রে এটি হবে দেশের প্রথম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় আন্ডারওয়াটার রেল রোড।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের নিচ থেকে ওই টানেল তৈরি করা হবে নগাঁও থেকে। এখানকার কালিবর চা বাগান থেকে শুরু করে জামুরিয়া পর্যন্ত ওই টানেল তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল অসীম সরকারের তরফে। ব্রহ্মপুত্রের নিচ থেকে শুধুমাত্র ওই টানেল তৈরি করতে খরচ পড়বে 7 হাজার কোটিরও বেশি। জানা যাচ্ছে, ব্রহ্মপুত্রর নিচে এই বিশেষ প্রকল্পের অধীনে রেল এবং সড়ক দুই রকমের টানেলই তৈরি করা হবে।
কয়েকটি সূত্র মারফত খবর, নদের নিচ থেকে ওই টানেল প্রায় 10 কিলোমিটার লম্বা হবে। একই সাথে এই টানেল তৈরি করার দায়িত্ব থাকবে রেলমন্ত্রক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রকের হাতে। কয়েকটি রিপোর্ট দাবি করছে, ব্রহ্মপুত্রের নিচে সমান্তরালভাবে তিনটি টানেল যাবে। সড়ক পথ, রেল পথের পাশাপাশি একটি টানেল এমার্জেন্সির জন্য রাখা হবে। আপাতত যা খবর, এই টানেলের কাজ শুরু হলে আড়াই বছরের মধ্যে তা সম্পূর্ণ করার হবে আশা করা হচ্ছে।
Cabinet approves India’s first Underwater twin-tube road rail tunnel under River Brahmaputra
🚇 4-lane tunnel | Gohpur – Numaligarh, Assam (34 km | ₹18,662 Cr)➡️ Strengthens the North-East as a gateway to the Act East policy
➡️ Distance reduced from 240 km to 34 km; travel… pic.twitter.com/u8Cmj1bOmk— Ashwini Vaishnaw (@AshwiniVaishnaw) February 14, 2026
এই মুহূর্তে অসমের কালিয়াভোমেরা সেতু রুট দিয়ে নুমালগড় থেকে গোহপুরের দূরত্ব প্রায় 240 কিলোমিটার। একই সাথে কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান এবং বিশ্বনাথ টাউন সহ অন্যান্য এলাকাগুলির মধ্যে দিয়ে যাতায়াতে প্রায় ছয় ঘন্টা সময় লাগে। তবে রিপোর্ট বলছে, ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ থেকে যে নতুন গ্রিনফিল্ড করিডোর তৈরি হচ্ছে তা এক স্থান থেকে অন্য স্থানের মধ্যে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমিয়ে আনবে। একই সাথে এই টানেল তৈরি হলে উত্তর অসম, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড সহ অন্যান্য উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়বে।
অবশ্যই পড়ুন: ৪ বছর পর পাকিস্তানের কাছে থেকে প্রতিশোধ নেবেন টিম ইন্ডিয়ার এই প্লেয়ার!
রিপোর্ট অনুযায়ী, জলের নিচ থেকে যাওয়া টানেলের মধ্যে দিয়ে যেকোনও ভারী যানবাহন এবং সেনার ভারী কনভয়ের গাড়ি ছাড়াও অন্যান্য গাড়ী 80 কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারবে। একই সাথে এই টানেল অসম রাজ্যের 54 ও 37 নম্বর জাতীয় সড়কের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করবে। এছাড়াও টানেল যেখানে তৈরি হতে চলেছে তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অরুণাচল প্রদেশ এবং চিনের সীমান্ত রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একবারে টানেল তৈরি হয়ে গেলে পরবর্তীতে এই টানেলের মাধ্যমে উপকৃত হবেন সেনারাও।











