সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (Middle East War) পরিস্থিতির মধ্যে যাতে সাধারণ মানুষের হেঁসেলে এবং দেশের অর্থনীতিতে চাপ না পড়ে, তার জন্য বিরাট সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার (Government of India)। এবার দু’মুখো রণনীতি গ্রহণ করল কেন্দ্র। একদিকে রান্নার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের উৎপাদন বৃদ্ধি, আর অন্যদিকে রফতানিকারকদের বাঁচানোর জন্য ২ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প, এই দুইয়ের কৌশল করেই এবার সংকট মোকাবিলায় নামছে কেন্দ্র সরকার।
হেঁশেলের চাপ এড়াতে ইলেকট্রিক দাওয়াই
আসলে যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে দেশে এমনিতেই জ্বালানির সংকট দেখা গিয়েছে। বর্তমানে রান্নার গ্যাসের যোগানে সেরকম কোনও ঘাটতি না থাকলেও ভবিষ্যতে এর দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এমনকি সংকটের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে এলপিজির উপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য উৎসাহিত করছে সরকার। সেই সূত্রে ইন্ডাকশন কুকার, রাইস কুকার এবং জল গরম করার বৈদ্যুতিন হিটারের উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। সেই সূত্রে শুক্রবার শিল্পোন্নয়ন দফতর, বিদ্যুৎ মন্ত্রক এবং ডিরেক্টর জেনারেল অফ ফরেন শীর্ষকর্তারা এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হল, ভবিষ্যতে গ্যাসের সংকট দেখা দিলে বাজারে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিকল্প পদ্ধতি সরঞ্জাম মজুদ থাকে তার ব্যবস্থা করা।
সরকারি খাতে ২ লক্ষ কোটি টাকার সুরক্ষা কবচ
অন্যদিকে যুদ্ধের ফলে লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ রূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ। আর এতে ভারতীয় রফতানিকারকদের পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে আটকে পড়েছে। যার ফলে ব্যবসায়ীদের নগদ পুঁজিতে টান পড়ছে। এদিকে এই সংকট কাটানোর জন্য করোনা মহামারীর মতো জরুরী ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প ফের চালু করতে চলেছে অর্থমন্ত্রক। সেই সূত্রে, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই ২ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে। রফতানিকারক এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত যাতে কোনওরকম বন্ধক ছাড়াই সরকারের গ্যারান্টিতে সহজে ঋণ পায়, তার ব্যবস্থা করছে কেন্দ্র। এতে বাণিজ্যের চাকা সচল থাকবে।
আরও পড়ুন: রাজ্যে ৪৬৬০ নতুন বুথ, ৩২১টি ভোটকেন্দ্র সরানোর অনুমোদন কমিশনের
এদিকে রফতানিকারকদের সংগঠন এফআইইও এর মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজ চলাচলের খরচ এবং বিমার প্রিমিয়াম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। আর পণ্য পৌঁছতে অনেকটা বেশি সময় লাগছে এবং খরচও বাড়ছে। যার ফলে বিদেশের বাজার থেকে সময় মতো টাকা দেশে আসছে না। আর এই অনিশ্চয়তা কাটানোর জন্যই সরকার নীতিগত সস্তায় পুঁজি যোগান দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।












