বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে চারধাম (Char Dham Rail Project) যাত্রা 2026 এর অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। আগামী 17 এপ্রিল থেকে শুরু হবে অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের কাজ। উত্তরাখণ্ড সরকারের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চারধাম যাত্রায় অংশ নিতে হলে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। এদিকে কেদারনাথ, বদ্রিনাথ, গঙ্গোত্রী এবং যমুনেত্রী অর্থাৎ এই চারটি ধামে পৌঁছতে যাতে দর্শনার্থীদের সমস্যা না হয় সেজন্যই পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে তৈরি হচ্ছে রেলপথ। ভারতীয় রেলের (Indian Railways) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চারধাম যাত্রীদের কষ্ট লাঘব করতে দ্রুত গতিতে চলছে রেল প্রকল্পের কাজ।
কতদূর রেল প্রকল্পের কাজ?
রেলমন্ত্রকের তরফে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চারধাম যাত্রায় অংশ নিতে যাওয়া পুণ্যার্থীদের ভীরকে সামাল দিতে পাহাড়ের দুর্গম পরিবেশে 327 কিলোমিটার দীর্ঘ রেল পথ তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছিল। জানা যায়, উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন এবং কর্ণপ্রয়াগ হয়ে গঙ্গোত্রী, যমুনেত্রী, বদ্রিনাথ এবং কেদারনাথের মধ্যে থেকে চলবে ট্রেন। সেই মর্মেই জোর কদমে চলছিল কাজ। এরই মাঝে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড জানিয়েছে, ঋষিকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ পর্যন্ত 125 কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের কাজ একপ্রকার শেষ।
আরও পড়ুনঃ ‘আরও এক দফায় লড়াই, এবার জিতবেন …’ DA মামলা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী
এদিকে রেলের বিভিন্ন টানেলগুলির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। রেল সূত্রে খবর, 38টি অত্যাধুনিক টানেলের মধ্যে ইতিমধ্যেই 28টি টানেলের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ভারতের দীর্ঘতম রেল টানেল T8 এর কাজও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই। রেল সূত্রে যা খবর, এই বিশেষ রেল প্রকল্পের মোট বাজেট 26 হাজার 841 কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রায় 60 থেকে 76 শতাংশ অর্থ খরচ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে কয়েকটি রেল ব্রিজ, কাটিং এবং স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে।
রেল সূত্রে খবর, শ্রীনগর গরহওয়াল, গোচর এবং কালেশ্বরের এলাকাগুলিকে সংযোগকারী মোটর টানেলগুলির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বলাই বাহুল্য, ভারতীয় রেলের এই বিশেষ প্রকল্পের অধীনে ঋষিকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ পর্যন্ত 125 কিলোমিটার দীর্ঘ রেল লাইনের 105 কিলোমিটার লাইন 16টি টানেলের মধ্যে দিয়ে যাবে। শোনা যাচ্ছে, এইসব টানেল ছাড়াও 12টি নিষ্কাশন টানেল ও কিছু ক্রস পাস প্যাসেজও তৈরি করা হচ্ছে।
অবশ্যই পড়ুন: প্রতিমাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৭০০০ টাকা! মহিলাদের ক্ষমতায়নে বড় প্ল্যান LIC-র
ভারতীয় রেলের কয়েকজন আধিকারিক জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই ঋষিকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ লাইনে আংশিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়ে যেতে পারে। তবে গোটা অংশে ট্রেন চলাচল শুরু হতে 2027 এর ডিসেম্বর অথবা 2028 সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। রেল আধিকারিকদের দাবি, পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি রেল প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়ে গেলে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে উঁচুতে অবস্থিত কেদারনাথ, বদ্রিনাথ মন্দিরগুলি অর্থাৎ চারধাম দর্শন অনেকটাই সহজ হবে তীর্থযাত্রীদের পক্ষে।












