স্বদেশী S-400 মিসাইল সিস্টেম তৈরি করছে ভারত, প্রথম ট্রায়াল সফল করল DRDO

Published:

Project Kusha

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Indian Defence)  শক্তিশালী করার জন্য এবার বিরাট উদ্যোগ ভারতের। ডিআরডিও-র দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রজেক্ট কুশার (Project Kusha) আওতায় প্রথম উন্নয়নমূলক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হল। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (Middle East War) পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই সাফল্য যে কূটনৈতিক দিক থেকে বিরাট মাইলফলক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জানুন এই প্রযুক্তির খুঁটিনাটি।

প্রথমেই জানিয়ে রাখি, প্রজেক্ট কুশার আনুষ্ঠানিক নাম এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এটি ভারতের একটি দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা কিনা রাশিয়ার এস৪০০ এবং এস৫০০ এর আদলে তৈরি করা এবং এর অনুরূপ বলেই মনে করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ২১,৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আর এটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এবং বেসামরিক স্থাপনালিকে নিরাপত্তা প্রদান করবে।

রয়েছে তিন পর্যায়ের ক্ষেপণাস্ত্র

প্রজেক্ট কুশাতে রয়েছে তিন স্তরের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। প্রথমে আছে এম১ ক্ষেপণাস্ত্র, যেটি ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লা দিতে পারবে। আর এগুলো যুদ্ধবিমান বা নির্ভুল অস্ত্র প্রতিহত করার জন্য একেবারে পারফেক্ট। দ্বিতীয়ত রয়েছে এম২ ক্ষেপণাস্ত্র, যেটি ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লা দিতে পারবে। আর এটি AESA প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত নির্ভুল। তৃতীয়ত রয়েছে এম৩ ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা ৩৫০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এগুলি একেবারে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো লক্ষ্যবস্তকে গুড়িয়ে দিতে পারে। এক কথায়, এই প্রযুক্তি শত্রুর বিমান হামলা নিমেষের মধ্যে গুড়িয়ে দেবে, সে যে কোনও ড্রোন, স্টিলথ ফাইটার, ব্যালেস্টিক মিসাইল। কোনও কিছুই ধোপে টিকবে না এর কাছে।

আরও পড়ুন: বন্দে ভারতে পচা খাবার পরিবেশন, IRCTC-কে মোটা জরিমানা রেলের, বাতিল চুক্তিও!

এদিকে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে এটির প্রথম ফ্লাইট পরীক্ষা করা হবে। ২০২৮ সালে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে, এমনকি ২০৩০ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যেই দেশব্যাপী শক্তিশালী আকাশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠ করা এই প্রজেক্ট কুশার মূল উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং মঙ্গলবার উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক করেন। আর সেখানে চিফ অফ ডিফেন্স, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রতিরক্ষা সচিব থেকে শুরু করে ডিআরডিও-র চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই এ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন: বকেয়া DA হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা কত টাকা পাবেন? মিলল হিসেব

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেছেন, আগামী দশকের জন্য আমাদের বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা করতে হবে, যা সমস্ত ক্ষেত্রেই আমাদেরকে আত্মনির্ভর হতে সাহায্য করবে। আর তার মধ্যে এই প্রজেক্ট কুশার প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুকুটে নয়া পালক জুড়ল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি এটি সম্পূর্ণ রাশিয়ার এস৪০০ এর অনুরূপে তৈরি এবং এতে তিন পর্যায়ের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থাকায় শত্রুপক্ষের বিমান হামলা নিমেষের মধ্যে গুঁড়িয়ে যাবে।

google button