সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের জনগণ কার কাছ থেকে কত টাকা পাচ্ছেন (Income Statement) বা কাকে কত টাকা পাঠাচ্ছেন, তা এবার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখবেন নরেন্দ্র মোদীর সরকার (Government of India)। হ্যাঁ, সেন্সাস কিংবা এসআইআর এর মাঝেই এবার শুরু হতে চলেছে ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ইনকাম সার্ভে (National Household Income Survey)। জানা গিয়েছে, চলতি এপ্রিল মাস থেকেই দেশজুড়ে এই তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করবে ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্স অফিস। কিন্তু কী কী তথ্য সংগ্রহ করা হবে এই সার্ভেতে?
কেন এই নতুন সমীক্ষা?
আসলে বর্তমানে সরকারের কাছে আয়কর দফতরের দেওয়া আয়ের তথ্য থাকে। কিন্তু ভারতের মতো এক বিরাট দেশে আয়করদাতার সংখ্যা মাত্র ১০ কোটির কাছাকাছি। এর বাইরেও কোটি কোটি মানুষ রয়েছেন যারা টিউশন, নাচ-গানের ক্লাস বা ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে টাকা উপার্জন করে থাকেন। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আয়ের উৎস ও পরিমাণ সরকারের কাছে অজানা। সেই অঘোষিত উপার্জনের সন্ধান করতেই এই মেগা সার্ভের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রের পরিসংখ্যান এবং প্রকল্প রূপায়ণ মন্ত্রক।
সমীক্ষায় কী কী তথ্য দিতে হবে?
এখনও পর্যন্ত পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সমীক্ষকরা যখন আপনার বাড়িতে পৌঁছবেন তখন পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আয়ের বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আয়ের উৎস। অর্থাৎ, আপনি চাকরি করেন নাকি ব্যবসা করেন নাকি অন্য কোনও কাজ তা স্পষ্ট জানাতে হবে। এমনকি বাড়ি ভাড়া বা নিজের জমি অন্যকে চাষ করতে দিয়ে উপার্জিত অর্থ কোনও ভাবে গোপন রাখা যাবে না। দ্বিতীয়ত, আপনাকে বিগত ৩৬৫ দিনের আয়ের হিসাব দিতে হবে। অর্থাৎ, গত এক বছরে আপনার পরিবার মোট কত টাকা আয় করেছে তার সঠিক হিসাব প্রদান করতে হবে। আর আপনি নিয়ম করে কাউকে টাকা পাঠান কিনা বা কেউ আপনাকে সাহায্য পাঠায় কিনা, সেই তথ্য জানাতে হবে সরকারকে।
আরও পড়ুন: মহিলা থেকে যুবক, চাকরিপ্রার্থী, কৃষক! বিজেপির সংকল্প পত্রে একগুচ্ছ ঘোষণা, দেখুন লিস্ট
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের ব্যাখ্যা, সমাজের কোন স্তরের মানুষের কাছে কতটা সরকারি সহায়তা বা প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন, তার সঠিক পরিকাঠামো তৈরি করার জন্যই এই সমীক্ষা। কিন্তু এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ দাবি করছেন, একটি পরিবার কাকে কেন টাকা দিয়ে সাহায্য করছে সেই তথ্য সরকারের জানার কোনও অধিকার নেই। এমনকি প্রতিটি নাগরিকের আয়ের উৎস সরকারের কাছে থাকলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার উপর চাপ তৈরি করতে পারে। আর একই সময়ে সেন্সাস বা অন্যান্য সমীক্ষা চলার কারণে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত হতে হবে।












